‘টাকা দিয়ে মরণের টিকিট কিনেছি’, ৮ পিস্তলের ভিডিও ছড়িয়ে যুবকের হুমকি

বাংলা টিভি ডেস্ক: ‘খেলা দেখছো কোথায়, ভালো হয়ে যা। চাঁদাবাজি বন্ধ কর। টাকা দিয়ে মরণের টিকিট আনছি’—এমন হুমকি দিয়ে একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র সামনে রেখে ভিডিও ধারণ করেছিলেন চট্টগ্রামের রাউজানের যুবক হৃদয় হোসেন শাওন ওরফে হৃদয় বুলেট।
সম্প্রতি ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশের দাবি, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ে ধারণ করা হয়নি। ২০২৩ সালের শেষ দিকে এটি তৈরি করা হয়েছিল। দুই পক্ষের পুরোনো বিরোধকে কেন্দ্র করে ভিডিওটি নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
ভিডিওতে অস্ত্র প্রদর্শনকারী হৃদয় বুলেট রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে রাউজান থানায় দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্যমতে, ভিডিওতে সাত থেকে আটটি পিস্তল দেখা গেলেও এর কয়েকটি খেলনা অস্ত্র। অন্যগুলো বিভিন্ন অপরাধীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে প্রদর্শিত অস্ত্রগুলোর কোনোটিই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে লুট করা নয় বলে দাবি পুলিশের।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ‘মামুন চেয়ারম্যানের সমর্থক গোষ্ঠী’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এতে কাপড়ের ওপর সারিবদ্ধভাবে রাখা একাধিক পিস্তল দেখা যায়।
ভিডিওটির সঙ্গে দেওয়া পোস্টে অস্ত্রগুলো অবৈধ এবং থানা থেকে লুট করা বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে হৃদয়ের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মানুষকে জিম্মি করার অভিযোগ তুলে তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হৃদয় এবং একই এলাকার আরাফাত মামুন একসময় একসঙ্গে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকার সময় তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সম্প্রতি হৃদয়ের বাবা বাদশাকে মামুন মারধর করেন বলেও পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। এ ঘটনার পর দুই পক্ষের বিরোধ আরও বেড়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় মামুনের অনুসারীরা পুরোনো ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন বলে পুলিশের ধারণা।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুলিশের নজরে এসেছে। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে। হৃদয় বুলেটকে এর আগেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। হৃদয় ও মামুনের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং একাধিক মামলা রয়েছে।
চট্টগ্রামের রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, ভিডিওটি ২০২৩ সালের শেষ দিকের। বিভিন্ন অপরাধীর কাছ থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে হৃদয় ভিডিওটি ধারণ করেছিলেন। পরে সেটি তাঁর মুঠোফোনে সংরক্ষিত ছিল। সাম্প্রতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে মামুন সেটি ছড়িয়ে দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ভিডিওতে প্রদর্শিত অস্ত্রের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছ থেকে লুট হওয়া কোনো অস্ত্র নেই। এর আগে পুলিশের অভিযানে ওই চক্রের দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছিল। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে রাউজান থানা-পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, ভিডিওটির সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে রাজনৈতিক বিরোধ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। গত দুই বছরে উপজেলাটিতে ২৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ২০টি রাজনৈতিক বিরোধের কারণে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সর্বশেষ গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে যুবদল কর্মী মোহাম্মদ করিমকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়।



