বাংলাদেশ

আগুনে নিঃস্ব ১১ বেদে পরিবার, শিকলে বাঁধা বানরের মৃত্যু

বাংলা টিভি ডেস্ক: লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট আগুনে বেদে সম্প্রদায়ের ১১টি পরিবারের চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এ ঘটনায় ইসমাত আরা নামে এক নারী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনাস্থলে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা একটি বানর আগুনে পুড়ে মারা গেছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ মজুপুর এলাকায় জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের পাশের একটি বসতিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রান্নার সময় গ্যাস সিলিন্ডারের মুখে আগুন ধরে যাওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটলে আগুন দ্রুত আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রওশন আলী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তাঁর পুত্রবধূ গ্যাস সিলিন্ডারে রান্না করছিলেন। এ সময় হঠাৎ সিলিন্ডারের মুখে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ঘরের আসবাবপত্রে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে পুরো ঘরসহ আশপাশের বসতঘরগুলোতেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে পাশের কয়েকটি ঘর রক্ষা পায়। তবে আগুন নেভানোর সময় মাথার ওপর কাঠ পড়ে ইসমাত আরা নামে এক নারী আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা কামরুল ও ফয়জুল আজিম জানান, আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে অল্প সময়ের মধ্যেই চারটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। ঘরগুলোতে রওশন আলী ও খলিলুর রহমানের ১১ ছেলে তাঁদের স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন।

ক্ষতিগ্রস্ত মোশাররফ হোসেন বলেন, আগুনে তাঁদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘরে থাকা স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। এতে তাঁদের অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বেদে সম্প্রদায়ের। তাঁরা স্থায়ীভাবে বসতঘর নির্মাণ করে ওই এলাকায় বসবাস করছিলেন। বসতঘর ছাড়া তাঁদের আর তেমন কোনো সম্পদ ছিল না। আগুনে সব হারিয়ে পরিবারগুলো এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় সরকারি সহায়তার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টাফ অফিসার জসীম উদ্দিন বলেন, স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় ১৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। দুই ব্যক্তির মালিকানাধীন মোট ১১টি কক্ষ আগুনে পুড়ে গেছে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারি উদ্যোগে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button