স্কুলের পাশে মুরগির খামার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীরা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: বিদ্যালয়ে আসার কথা বই-খাতা নিয়ে, মনোযোগ দেওয়ার কথা পাঠে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে ঢুকতেই নাকে আসে তীব্র দুর্গন্ধ। কখনো নাক চেপে, কখনো অস্বস্তি নিয়েই ক্লাস করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এতে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের সোনাইডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয় থেকে মাত্র কয়েক হাত দূরে গড়ে উঠেছে একটি মুরগির খামার। খামারের বর্জ্য ও মুরগির বিষ্ঠা থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ের পরিবেশ হয়ে উঠেছে অস্বস্তিকর। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন সকালে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। জাতীয় সংগীত, সকালের সমাবেশ ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শিক্ষা কার্যক্রম। কিন্তু পাশের মুরগির খামার থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধ সেই স্বাভাবিক পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ নেওয়ার সময়ও দুর্গন্ধের কারণে মনোযোগ ধরে রাখতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ, খামারের দুর্গন্ধে দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও পেটের সমস্যাসহ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছে। ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. শামীম আরা বলেন, ‘খামারের দুর্গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শিক্ষকরাও ভোগান্তিতে পড়ছেন।’
তিনি আরও জানান, ‘সমস্যা নিরসনে গত ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে বিদ্যালয়ের পাশে থাকা মুরগির খামারটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।’
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের পড়াশোনার জন্য বিদ্যালয়ে পাঠানো হলেও সেখানে যদি দুর্গন্ধের মধ্যে থাকতে হয়, তাহলে তাদের স্বাভাবিক শিক্ষা ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হবে। তাঁদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ হওয়া উচিত পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও শিশুবান্ধব। তাই দ্রুত খামারটির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে খামারি মিলন সরকার বলেন, জীবন-জীবিকার তাগিদেই তিনি মুরগির খামার গড়ে তুলেছেন। খামার পরিচালনার বিষয়ে নিজের অবস্থানের পক্ষেও যুক্তি তুলে ধরেন তিনি।
এ বিষয়ে বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান বলেন, ‘একটি বিদ্যালয় শিশুদের শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জায়গা। সেখানে দুর্গন্ধের কারণে পাঠদানের পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়া কাম্য নয়। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় বিষয়টির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সবুজ কুমার বসাক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



