
ডেঙ্গুর প্রকপ চলছে রাজধানীসহ সারা দেশে। এ বছরের শুরু থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রুগির সংখ্যা দাঁড়াবে ৭১ হাজার জন, আর চিকিৎসাবাবদ এদের ২৭৮ কোটি টাকা খরচ হবে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে৷
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ তার ছয়জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন। আর এজন্য ঢাকার হাসপাতালগুলো থেকে ডেঙ্গু রুগিদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন তারা। জার্মান ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা ডয়েচে ভেলে এমন খবর প্রকাশ করে।
বৃহস্পতিবার ডয়েচে ভেলে’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক হামিদ তাদের গবেষণার আদ্যোপান্ত তুলে ধরে বলেন, গবেষণাটা এখনো চলছে৷ হাসপাতালে যারা ভর্তি হয়ে সেবা নিয়েছেন তাদের কত খরচ হয়েছে সেই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে৷ আমাদের হিসেবে খরচটা খুব বেশি না৷ তবে সব ধরনের খরচ হিসেব করলে এই খরচ বড় হবে৷
রুগির প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা, খাবার ও হাসপাতালে আসার খরচ, দুইজন অ্যাটেনডেন্টের কর্মঘণ্টা এবং যারা মারা গেছেন মাথাপিছু আয় ধরে তাদের অর্থনৈতিক ভ্যালু অ্যাড করে এই খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে৷
সরকারি হিসেবের বাইরে যারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তাদের এই হিসেবের মধ্যে আনা হয়নি৷ এছাড়া হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগে যারা চিকিৎসা নিয়েছেন, জ্বর হওয়ার পর আতঙ্কিত হয়ে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করিয়েছেন, মশা মারার ওষুধ কিনেছেন এবং ডেঙ্গু আতঙ্কে যাদের মানসিক ট্রমা হয়েছে তাদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার খরচও এই হিসেবের মধ্যে আনা হয়নি৷
অধ্যাপক হামিদ বলেন, ‘এবার ডেঙ্গুতে ৩০ বছরের কম বয়সীরা বেশি মারা গেছে৷ সরকারি হিসেবে এ বছরের জানুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট ৫১ হাজার ৫০০ জন ডেঙ্গু রুগি হাসপাতালে ভর্তি হয়৷ ঢাকার সরকারি হাসপাতালগুলোকে একটি শ্রেণিতে রেখে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ‘এ’ এবং ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ভাগ করে খরচের চিত্র তুলে আনা হয়৷
এবার ডেঙ্গু আক্রান্তদের ছয় থেক আট দিন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে৷ সরকারি হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৩৭ হাজার ডেঙ্গু রুগি ভর্তি হয়েছেন, এদের গড়ে খরচ হয়েছে পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা করে৷
‘এ’ ক্যাটাগরির বেসরকারি হাসাপাতালে একেকজন ডেঙ্গু রুগির খরচ হয়েছে দেড় লাখ টাকা৷ আর ‘বি’ ক্যাটাগরির বেসরকারি হাসপাতাল এই খরচ ছিল সাড়ে ৫৩ হাজার টাকা৷ এই হিসেবে গত ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ২০৪ কোটি টাকা৷
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ডেঙ্গু বাড়ছে মত দিয়ে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক হামিদ বলেন, ‘আগে টানা বৃষ্টি হত, সবকিছু ধূয়ে নিয়ে যেত৷ এখন দেখা যায় একটু বৃষ্টি হয়ে আবার তিনদিন বৃষ্টি নেই৷ ফলে পানি জমে থাকে, আর এই পরিস্কার পানিতেই এডিস মশা হচ্ছে৷
তিনি আরো বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের এই ধারা অব্যাহত থাকবে৷ এজন্য জনসচেতনতা বাড়াতে হবে৷ ডেঙ্গু কেন হচ্ছে এবং এটা নিয়ন্ত্রণে পারিবারিকভাবে কি করতে পারি, সমন্বিতভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে৷ ডেঙ্গু কেন হচ্ছে, কোথায় হচ্ছে এটার সায়েন্টেফিক অ্যানালাইসিস আছে আরো অ্যানালাইসিস করে যেসব কারণে ডেঙ্গু হচ্ছে সেখানে হাত দিতে হবে৷



