
সরকারের ধারবাহিক প্রচেষ্টা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মানবপাচার রোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের চলতি বছরের মানবপাচার বিষয়ক ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট’- এ বাংলাদেশের এক ধাপ উন্নতি হয়েছে।
এদিকে, গত কয়েক বছরের নজরদারির তালিকা থেকে বেরিয়ে এসে মানবপাচার রোধে দ্বিতীয় স্তরে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। মানবপাচার রোধে অগ্রগতির এ ধারা অব্যাহত রাখার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাজীবন দুর্নীতি ও অনাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। বাংলাদেশকে একটি আদর্শ কল্যাণ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলে বিশ্বের বুকে বাঙালিকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করাতেও কাজ করে গেছেন তিনি।
কিন্তু বিভিন্ন সময়ে মানবপাচারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি। এ অবস্থায়, মানবপাচার রোধে কঠোর অবস্থান নেয়ার পাশাপাশি, ২০১২ সালে দেশে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন প্রণয়ন করে সরকার। ফলে, এ বছর পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচার রিপোর্টে দ্বিতীয় স্তরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন জানান, অবৈধ কার্যকলাপের জন্য রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল, মানবপাচার বিষয়ে সরকারের জিরো টলারেন্স ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা- এ অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ড. আসিফ মুনীর মনে করেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার সাথে বাংলাদেশের সংস্থাগুলোর সহযোগিতামূলক পদক্ষেপের ফলে মানবপাচারের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি মানবাচারের মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির ওপরও জোর দেন তিনি।
মানবপাচার নির্মূলে বিদ্যামান বিচ্যুতিগুলো দূর করার বিষয়ে তার মন্ত্রণালয়ের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে মুনিরুছ সালেহীন বলেন, মানুষকে সচেতন করতে পারলে তালিকায় আরও অগ্রগতি হবে বাংলাদেশের। এছাড়া সকল অংশীজনের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় দেশ থেকে মানবপাচার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব বলেও মনে করেন তারা।
আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি, ঢাকা



