
চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ থেকে বিদেশ যাওয়া রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিবছর রেকর্ড সংখ্যক রোগী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যান। দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়হীনতা, প্রযুক্তিগত দুর্বলতা সর্বোপরি চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতাকেই এজন্য দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, বাংলাদেশে সব ধরনের রোগের চিকিৎসা সুবিধা থাকলেও চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রটি পুরোপুরি রোগীবান্ধব হয়ে ওঠেনি।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে শুধু ভারতেই চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় দেড় লাখের বেশি মানুষ। ২০১৭-২০১৮ সালে এর সংখ্যা বেড়ে দাড়ায় পৌনে ২ লাখ। সবশেষ করোনা পূর্ববর্তী ২০১৯ সালে তা আরো বেড়ে দাড়ায় ৪ লাখের বেশি।
বিদেশে চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারী রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে দেশীয় চিকিৎসাখাত, বাড়ছে অঘোষিত অনাস্থা। প্রযুক্তিগত দুর্বলতার পাশাপাশি চিকিৎসকদের মানসিকতা পরিবর্তন করে রোগীবান্ধব হয়ে না ওঠাও অন্যতম কারণ বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এভারকেয়ার হাসপাতালের হেড অব মেডিকেল সার্ভিসেস আরিফ মাহমুদ বলেন, সিঙ্গাপুর বা ব্যাংকক থেকে বাংলাদেশের চিকিৎসা খরচ শুধু কমই নয়, সেবার মানও ভালো।
দেশে সুচিকিৎসার সুবিধা থাকলেও শুধুমাত্র হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার কারণে রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত বলে মত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর। তাছাড়া, ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যসেবায় জড়িতদের মানসিকতা রোগীবান্ধব নয়ও বলেও মনে করেন তিনি।
বিশাল জনগোষ্ঠীর এ দেশে চিকিৎসা সেবা দিতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অপ্রতুলতা অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করছেন, ইউজিসি অধ্যাপক, ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ব্যাক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডাক্তার এবিএম আব্দুল্লাহ।
দেশে চিকিৎসা গ্রহণের পরেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে ওই রোগী বিদেশে চলে যান। আর তাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটু সময় নিয়ে দেশীয় চিকিৎসা ব্যবস্থায় আস্থা রাখলেই দেশের এই বিরাট জনগোষ্ঠী সুচিকিৎসার পাবে।



