
মহামারী করোনা মোকাবেলায়, শুরুতে কেবলমাত্র একটি উৎস থেকে ভ্যাকসিন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত ভূল কূটনৈতিক কৌশল ছিলো- এমনটাই বলছেন বিশ্লেষকরা। ভারতের টিকা সরবরাহ হঠাৎ বন্ধে ঘাটতির মুখে পড়লেও, সংকট নিরসনে বিকল্প বন্দোবস্ত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্বিকভাবে অনেকটাই সফল বলেও মত তাদের। পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এরইমধ্যে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশেকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১০ লাখ ডোজ টিকা দেবে। বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী, এতে করে প্রাথমিক সংকট কাটানো সম্ভব হবে।
অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ করোনা ভ্যাকসিন কেনার জন্য ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি থাকলেও, ৭০ লাখ ডোজ সরবরাহের পর নিজেদের করোনা পরিস্থিতি খারাপ হলে টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এ অবস্থায়, দেশের ১৫ লাখ মানুষ করোনার প্রথম ডোজ টিকা নিয়ে অপেক্ষায় আছেন দ্বিতীয় ডোজের।
বিকল্প উৎস অন্বেষণে দ্রুতই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ায় সরকার। এরইমধ্যে চীন প্রথম দফায় ৫ লাখ সিনোভ্যাক্স টিকা উপহার দিয়েছে। আগামী ১৩ জুন আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা আসার কথা। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিনোফার্ম থেকে দেড় কোটি ডোজ টিকা কেনা নিয়ে নতুন জটিলতায় পড়েছে বাংলাদেশ। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে চীনা ভ্যাকসিনের দাম প্রকাশ করা নিয়ে শোরগোল হলেও ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির উপ-রাষ্ট্রদূত হুয়ালং ইয়ান এক ফেসবুক বার্তায় বলেন, চীন কিংবা সিনোফার্মের সঙ্গে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো চুক্তি হয়নি। যদিও পররাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি ছিল- ‘চীনের টিকা কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত।’
সকলেই আশ্বাস দিলেও টিকা হাতে আসছে না উল্লেখ করে, এরইমধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন- বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১০ লাখ ডোজ টিকা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
সার্বিকভাবে ভ্যাকসিন ডিপ্লোমেসিতে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎপরতার প্রশংসাই করেছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে করোনার টিকার জন্য শুরুতে একক উৎসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকা একেবারেই ঠিক হয়নি বলেও মনে করেন তারা। এই দুই বিশেষজ্ঞই আশাবাদী, যুক্তরাষ্ট্রের টিকা পাওয়ার বিষয়ে।
তবে, বিপুল জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে দেশেই টিকা উৎপাদনের বিষয়ে সরকারকে আরও জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাটিভি/ এস



