
রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ৫ বছর হলো আজ। ২০১৬ সালের ওই জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা ও ১৭ জন বিদেশিসহ মোট ২২ জন নিহত হন। জঙ্গিদের গুলি ও বোমায় আহত হন অনেকে পুলিশ সদস্যও। এদিকে, হলি আর্টিজানে হামলাকারীদের সাথে আইএসের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন, কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম- সিটিটিসি’র প্রধান। হামলার ৫ বছর উপলক্ষে দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবী করেন, আইনশৃংখলা সংস্থার কঠোর ভূমিকার কারণেই জঙ্গি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আছে।
২০১৬ সালে ১ জুলাই, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ঢুকে প্রথমে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি ২২ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে জঙ্গিরা। রাতভর জিম্মি করে রাখে সেখানে আসা বেশ দেশি-বিদেশি অতিথি ও বেকারির স্টাফদের।
পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো ইউনিটের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে’ অবসান হয় সেই জিম্মিদশার। বিদেশি নাগরিকসহ জিম্মি অবস্থায় থাকা ৩৫ জনকে উদ্ধার করা হয়, অভিযানে নিহত হয় হামলাকারী ৫ জঙ্গি। বাংলাদেশের অন্যতম নৃশংস এই জঙ্গি হামলার ঘটনা আলোচিত হয় বিশ্বের সংবাদমাধ্যমেও। বিতর্ক ওঠে ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস’এর সম্পৃক্ততা নিয়েও।
হামলার ৫ বছর উপলক্ষে, বৃহষ্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম-সিটিটিসি। এসময় সংস্থাটির প্রধান জানান, ওই ঘটনায় আইএস এর কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
এসময় দেশের জঙ্গিবাদ দমনে, সিটিটিসির কার্যক্রম তুলে ধরেন মো. আসাদুজ্জামান।এদিকে, হলি আর্টিজানে নৃশংস জঙ্গি হামলার পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি মামলার চূড়ান্ত বিচার প্রক্রিয়া। ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর এই মামলায় ৭ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে বেকসুর খালাসের রায় দেন আদালত। এরপর আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, আর খালাস পাওয়া একজনের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। কিন্তু দীর্ঘ ১৯ মাস পেরিয়ে গেলেও, থমকে আছে উচ্চ আদালতে বিচারিক কার্যক্রম।
বাংলাটিভি/ এস



