
কথা ছিলো,ছোট সন্তানকে নববধুসহ ধুমধাম করে বরন করবেন। তাই স্বামী একমাত্র মেয়ে-জামাই,বাবা-মা,ভাই-ভাবীসহ ১৪জন নিকট আত্নীয়কে পাঠিয়েছিলেন,ছেলে ও ছেলের নববিবাহিতা স্ত্রীকে আনতে।কিন্তু হঠাৎ বজ্রপাতে সব আনন্দ পরিণত হয়,শোকে।একসঙ্গে এতজনের মৃত্যুতে পরিবারগুলোর সঙ্গে সমব্যাথী এলাকাবাসীও। তারাও যেন শোকে পাথর হয়ে গেছেন। হারিয়ে ফেলেছেন সান্তনার ভাষা।
গত ৪ আগষ্ট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আলিমনগর ঘাট থেকে, একটি নৌকাযোগে প্রায় ৪০ জন যাত্রী, শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বিশরশিয়া এলাকায় বর ও কণেকে আনতে যাচ্ছিলেন বরপক্ষ। তারা দক্ষিণ পাঁকা ঘাটে পৌঁছুলে বৃষ্টির কারণে নৌকা থেকে নেমে ঘাটের পাশের ছাউনিতে আশ্রয় নেন।বৌভাতের অনুষ্ঠানে এমন আনন্দের উপলক্ষ, মুহূর্তেই রূপ নেয় শোকে। হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ১৭ জনের মৃত্যু হয়।
এতজনের মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের সূর্যনারায়ন গ্রামের মৃত শরিফুল ইসলামের বাড়ি এবং সদর উপজেলার মহারাজনগর ডাইলপাড়া গ্রামে কনের বাড়ি।মাত্র কদিন আগেই এই ২ বাড়ি ছিলো আনন্দমুখর। বিয়ের উৎসবে মেতে ছিলো পরিবার দুটো। ছিলো,স্বজন ও স্থানীয়দের আনাগোনা। এখন সব নিরব। নববিবাহিতা সুমি,শাশুরিকে সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করছেন। আর একসঙ্গে ১৭ স্বজনকে হারানোর শোকে দিশেহারা বর মামুন। শোকাহত এই ২ বাড়িতে সান্তনা দেয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না, প্রতিবেশি ও স্বজনরা।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহতদের সু-চিকিৎসার পাশাপাশি,নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তার কথা জানান, জেলা প্রকাশক।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বজ্রপাতে একসাথে এত মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম।এ ঘটনায় আরও অন্তত ১২ বরযাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। এসব পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসন ছাড়াও,বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক,সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান,এলাকাবাসী।
বাংলা টিভি/এস



