
সাতদিন নিখোঁজ থাকার পর ঝিনাইদহ-৪ আসনের এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের মরদেহ উদ্ধার করেছে ভারতীয় পুলিশ।বুধবার (২২ মে) কলকাতার নিউটাউনের সঞ্জীবা গার্ডেন এলাকা থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে, চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি।
পরে পশ্চিমবঙ্গের বরাহনগর থানায় জিডি করেন এমপি আনারের বন্ধু গোপাল। এমপির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন ২ জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। তাকে উদ্ধারে ভারতের পুলিশের সাথে কাজ করছিল বাংলাদেশের পুলিশ। এমপি নিখোঁজের ঘটনা ছিল গত কয়েকদিন ধরে টক অব দ্যা কান্ট্রি।
মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে টেকনো স্মৃতি থানা পুলিশ। এ ঘটনার সাথে কারা জড়িত তা জানতে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, গত ১২ মে সন্ধ্যা সাতটার দিকে তার বন্ধুর বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছান তিনি।পরের দিন ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে বেরিয়ে যান তিনি। শেষবার বরানগর বিধানপার্ক এলাকার কলকাতা পাবলিক স্কুলের সামনে থেকে তাকে গাড়িতেও উঠতে দেখা যায়। তবে কীভাবে তিনি নিউটাউনে গেলেন তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।
আনারের স্বজনরা জানান, গত ১১ মে চিকিৎসার জন্য ভারত যান আনোয়ারুল আজিম। ওইদিন চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ইমগ্রেশন বর্ডার হয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। ১৫ মে পর্যন্ত তার সাথে যোগাযোগ থাকলেও এরপর থেকে তার সাথে আর যোগাযোগ করা যায়নি।
গত ১৯ মে ডিবি কার্যালয়েও যান আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘তিনদিন ধরে আমার বাবাকে ফোনে পাচ্ছি না। তার মোবাইল ফোনটি মাঝে মাঝে খোলা পাই আবার মাঝে মাঝে বন্ধ পাই। পরে এই বিষয়ে আমি ডিবি প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে বলেছেন বিষয়টি তিনি দেখছেন। পরে আজকে আমি ওনার কার্যালয়ে আসি। তিনি আমাদের সহযোগিতা করছেন। বাবাকে ফোনে না পাওয়ার কারণেই মূলত আমি ডিবি কার্যালয়ে এসেছি। আমি নিজেও ভারতে দ্রুত সময়ের মধ্যে যাব।’
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছিলেন, ‘ঝিনাইদহের এমপি (আনোয়ারুল আজীম আনার) আমাদের ইমিগ্রেশন ও ভারতের ইমিগ্রেশন যথাযথভাবে পার হয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। যাওয়ার পরে তার কোনো খোঁজখবর পাচ্ছি না। সব গভর্নমেন্ট এজেন্সি এটা নিয়ে কাজ করছে। এনএসআই, এসবি, পুলিশ কাজ করছে। ভারতীয় পুলিশের সঙ্গে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে এটা নিয়ে কাজ চলছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে এখন পর্যন্ত তার বিষয়ে কোনো আপডেট নেই। যতটুকু শুনছি, তার (আনার) মোবাইলটাও বন্ধ আছে।
বাংলা টিভি / এমএএইচ



