‘সবাই শুধু ছবি তুইলা নিয়া যায়, বোনডার লাশ কেউ আইনা দেয় না’

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত প্রবাসী নারী শ্রমিক দিপালী আক্তারের মরদেহ এখনো দেশে না ফেরায় শোকে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। চরভদ্রাসন উপজেলার পূর্ব শালেপুর মুন্সিরচর গ্রামের দরিদ্র এই পরিবারটি বারবার কেবল মরদেহ ফেরতের অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার ছোট বোন লাইজু আক্তার।
লাইজু আক্তার বলেন, ১২ এপ্রিল তিনি ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারে গিয়ে মরদেহ ফেরানোর জন্য আবেদন করেছেন। তার ভাষায়, “আমি শুধু আমার বোনটারে ফেরত চাই। কেউ জিজ্ঞেস করে সরকার কত টাকা দেবে, আমি কিছুই চাই না—আমি শুধু আমার বোনটারে চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্নজন এসে ছবি তুলে নিয়ে গেলেও এখনো তার বোনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়নি।
নিহত দিপালী আক্তার ২০১১ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে সংসারের অভাব দূর করতে লেবাননে যান। পরিবারে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় ভরসা। বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থে পরিবারের ভাঙা ঘর ঠিক করা, ভাইবোনদের বিয়ে এবং সংসারের খরচ চালানো—সবই তার উপার্জনের ওপর নির্ভর করত বলে জানান স্বজনরা।
গত ৮ এপ্রিল বৈরুতের একটি ভবনে বোমা হামলায় গুরুতর আহত হন দিপালী। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক জানান, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে, তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বিমান চলাচলে জটিলতার কারণে কিছুটা সময় লাগছে। তিনি বলেন, পরিবারকে নিয়মিত আপডেট দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা ও দাফন সহায়তা দেওয়া হবে।



