বাংলাদেশ

দুর্ঘটনা ডান হাত কেড়ে নিলেও পিছু হটেনি মাদ্রাসাছাত্র রেজভী

ইকবাল হাসান রেজভীর গল্পটি এক অনন্য দৃঢ়তার উদাহরণ। একটি দুর্ঘটনায় ডান হাত হারানোর মতো বড় ধাক্কা অনেকের জীবন থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু সে থেমে যায়নি। বরং প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

করোনাকালে বন্ধুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে এক দুর্ঘটনায় বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুতর আহত হয় রেজভী। পরে চিকিৎসার জন্য তার ডান হাত কেটে ফেলতে হয়। এমন একটি ঘটনা যেকোনো কিশোরের জীবনকে ভেঙে দিতে পারত। কিন্তু রেজভী হার মানেনি। নতুন করে জীবনকে গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু করে। যেই হাতে আগে কখনো লিখেনি, সেই বাঁ হাত দিয়েই ধীরে ধীরে লেখা শিখে নেয়।

এবার সে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এবং অন্যদের মতোই নিয়মিতভাবে খাতায় লিখছে—তবে বাঁ হাতে। লালমোহনের ইসলামিক মডেল মাদ্রাসার এই শিক্ষার্থী প্রমাণ করেছে, শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও মানসিক শক্তি ও ইচ্ছাশক্তি থাকলে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। তার নিজের কথাতেই বোঝা যায় আত্মবিশ্বাস—সে বলেছে, আল্লাহর রহমতে বাঁ হাত দিয়েই সে ডান হাতের মতো শক্তি অনুভব করে এবং পরীক্ষাও ভালো হয়েছে।

তার পরিবারের আর্থিক অবস্থাও খুব স্বচ্ছল নয়। বাবা একটি কোম্পানির পণ্য সরবরাহের কাজ করেন, সামান্য আয়ে সংসার চলে। তবুও পরিবার এবং আশপাশের মানুষের সহায়তায় রেজভী আবার পড়াশোনায় ফিরেছে। তার শিক্ষক ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষও তাকে সহানুভূতির সঙ্গে সহযোগিতা করছেন।

এই গল্প শুধু একজন শিক্ষার্থীর সংগ্রামের কাহিনি নয়; এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ইচ্ছাশক্তি, ধৈর্য এবং পরিশ্রম থাকলে বড় বাধাও জয় করা যায়। রেজভীর মতো মানুষরা সমাজে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে, যারা দেখিয়ে দেয়, হার মানা নয়—লড়াই করাই আসল।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button