বাংলাদেশ

লোডশেডিংয়ে চা-বাগানে উৎপাদন বিপর্যয়

বাংলা টিভি ডেস্ক: বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের চা শিল্প নতুন করে বড় সংকটে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় বাগান থেকে তোলা কাঁচা চা-পাতার অর্ধেকের বেশি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বা মান হারাচ্ছে। ফলে এ বছর বাগানে চা পাতার ফলন ভালো হলেও বাজারজাতযোগ্য চায়ের পরিমাণ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, লোডশেডিংয়ের সময় ডিজেলচালিত জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এতে খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারে দেশের চা শিল্প, এমনকি রপ্তানিও কমে যেতে পারে।

বাংলাদেশ চা বোর্ড-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম ও পঞ্চগড়সহ ৭-৮টি জেলায় মোট ১৭২টি চা-বাগান রয়েছে। ২০২৫ সালে দেশে চা উৎপাদন হয়েছে ৯ কোটি ৪৯ লাখ কেজি, যা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম।

চা-বাগান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্চ থেকে নভেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত চা পাতা তোলার মৌসুম। এ বছর ফলন ভালো হলেও গত দেড় মাস ধরে দিনের প্রায় অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ না থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে বার্ষিক উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বর্তমানে তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু জ্বালানি সংকট, গ্যাসের ঘাটতি এবং কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলায় লোডশেডিং বেড়েছে, যা চা-বাগানগুলোতেও বড় প্রভাব ফেলছে।

চা-পাতা একটি দ্রুত নষ্ট হওয়া কৃষিপণ্য। সংগ্রহের পর দ্রুত উইদারিং, রোলিং, ফারমেন্টেশন, ড্রাইং ও সর্টিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব করা না গেলে পাতার গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়—রং, সুগন্ধ কমে যায়, এমনকি পুরো ব্যাচ বাতিলও হতে পারে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে এই প্রক্রিয়াগুলো সময়মতো সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না।

এছাড়া অনেক বাগান এখন জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। একটি মাঝারি কারখানায় দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালাতে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল খরচ হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ অনেক বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে, শ্রমঘণ্টা কমে যাচ্ছে এবং উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button