আমেরিকায় ট্যাক্সি চালিয়ে দেশে গড়েছেন ৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

বাংলা টিভি ডেস্ক: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা-এর ধান্যদৌল গ্রামের মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী নিজের জীবনের কঠিন সংগ্রামকে পেছনে ফেলে হয়ে উঠেছেন শিক্ষার এক নীরব দানবীর।
মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। এসএসসির আগেই জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমান এবং কাতারে শ্রমজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন।
পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নির্মাণশ্রমিক ও ট্যাক্সি চালক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেন। তবে ব্যক্তিগত আয়-আয়েশের বদলে তিনি নিজের উপার্জনের বড় অংশ ব্যয় করেন গ্রামের শিক্ষার উন্নয়নে।
তার উদ্যোগে এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—
- ২টি কলেজ
- ১টি উচ্চ বিদ্যালয়
- ২টি মাদ্রাসা
- ১টি কিন্ডারগার্টেন
- ২টি পাঠাগার
এছাড়া তিনি প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ডায়াবেটিক হাসপাতালের জন্য জমি দান করেছেন। শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য গড়ে তুলেছেন ফাউন্ডেশন, যার মাধ্যমে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে এবং গৃহহীনদের জন্য ঘরও নির্মাণ করা হয়েছে।
১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত তার প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি এখন এলাকার অন্যতম মানসম্মত স্কুল হিসেবে পরিচিত, যেখানে হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
ব্যক্তিজীবনে তিনি এখনো প্রবাসে সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং স্ত্রী-সন্তানরা বাংলাদেশেই থাকেন। তার ভাষায়, “ভোগ নয়, মানুষের জন্য কিছু করাই আমার জীবনের আনন্দ।”
তার এই উদ্যোগে পুরো ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় শিক্ষার প্রসার ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।



