বাংলাদেশ

প্রেমের কারণে মানসিক ভারসাম্যহীন মেধাবী ছাত্র সম্রাট

গাজীপুর প্রতিনিধি: লাইলি-মজনু, ফরহাদ-শিরিন কিংবা চণ্ডীদাস-রামীর প্রেমকাহিনী ইতিহাস ও লোকসাহিত্যে আজও অমর হয়ে আছে। প্রেমের জন্য কেউ সমাজ ছেড়েছেন, কেউ জীবন দিয়েছেন, আবার কেউ জাত-ধর্মের বাধা অতিক্রম করেছেন। তেমনি এক করুণ বাস্তব গল্প এখন আলোচনায় সাভারের আশুলিয়ার ছনটেকি গ্রামের তরুণ সম্রাটকে ঘিরে।

তিন বছর আগেও সম্রাট ছিল স্বপ্নবাজ এক মেধাবী শিক্ষার্থী। ২০২১ সালে ফারুকনগর ইসমাইল বেপারী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। স্কুলজীবনেই একই বিদ্যালয়ের এক মেয়ের প্রতি ভালো লাগা তৈরি হয় তার। পরিবারের দাবি, মেয়েটিকে একনজর দেখার আশায় প্রায়ই রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতেন সম্রাট।

অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি মেয়ের পরিবার মেনে নিতে না পেরে কয়েক দফা তাকে নির্মমভাবে মারধর করে। সেই আঘাতের পর থেকেই বদলে যেতে থাকে সম্রাটের আচরণ। ধীরে ধীরে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় সুস্থ-স্বাভাবিক ও মেধাবী এই তরুণের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন।

সম্রাটের মা স্বপ্না বেগম বলেন, তার ছেলে নিয়মিত নামাজ পড়তেন এবং পড়াশোনাতেও ভালো ছিলেন। মারধরের ঘটনার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। দীর্ঘ তিন বছর ধরে চিকিৎসা করানো হলেও এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি।

বাবা আব্দুল মালেক জানান, ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। চিকিৎসকেরা আশা দিলেও অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি সমাজের বিত্তবান মানুষদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, যথাযথ চিকিৎসা ও সহানুভূতি পেলে সম্রাট আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। এখন প্রয়োজন সমাজ ও প্রশাসনের আন্তরিক উদ্যোগ।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button