মোটরসাইকেল মালিকদের থেকে অগ্রিম আয়কর যেভাবে আদায় করা হবে

বাংলা টিভি ডেস্ক: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোটরসাইকেল মালিকদের জন্য অগ্রিম আয়কর (এআইটি) চালুর চিন্তা করছে—এমন খবর প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যাদের করযোগ্য আয় নেই, কিন্তু মোটরসাইকেল রয়েছে, তাদের মধ্যে এ কর কীভাবে আদায় করা হবে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কারণ দেশের অনেক বাইক মালিকের ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিন) নেই এবং তারা নিয়মিত আয়করও দেন না।
বর্তমানে মোটরসাইকেল মালিকদের প্রতি বছর ট্যাক্স টোকেন ফি দিতে হয় এবং নির্দিষ্ট সময় পর তা নবায়ন করতে হয়। এখন সেই ব্যবস্থার পাশাপাশি মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে মোটরসাইকেলসহ কর নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা কিছু যানবাহনকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান বদিউর রহমান এ উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন। তার মতে, করের আওতা বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগ প্রয়োজন। তবে করের হার যেন যৌক্তিক হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, টিন নম্বরের মাধ্যমে নাকি অন্য কোনো পদ্ধতিতে কর আদায় হবে, সেটি এনবিআরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তবে সরকারের এমন পরিকল্পনার খবর প্রকাশের পর বাইক মালিক ও চালকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইতোমধ্যে একদল মোটরসাইকেল চালক এনবিআর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন এবং অতিরিক্ত কর আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৯ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। সম্প্রতি এনবিআর কর্মকর্তারা অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাকে অগ্রিম আয়করের আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গাড়ির ওপর বিদ্যমান অগ্রিম কর বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এনবিআরের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় এখন পর্যন্ত টিন নম্বরের ভিত্তিতে এআইটি আদায়ের বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, এতে আরও বেশি মানুষ কর ব্যবস্থার আওতায় আসবেন এবং ভবিষ্যতে করদাতার সংখ্যা বাড়বে। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, ট্যাক্স টোকেন ফি আদায়ের বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গেই নতুন কর যুক্ত করা হলে টিন ছাড়া বাইক মালিকদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ হবে।
সম্ভাব্য কর কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করের আওতার বাইরে থাকতে পারে। ১১১ থেকে ১২৫ সিসি পর্যন্ত বাইকের জন্য বছরে প্রায় ২ হাজার টাকা, ১৬৫ সিসি পর্যন্ত বাইকের জন্য ৫ হাজার টাকা এবং এর বেশি সিসির মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের চিন্তা করা হচ্ছে।
শুধু মোটরসাইকেল নয়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকেও করের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলকারী অটোরিকশার জন্য ৫ হাজার টাকা, পৌরসভা এলাকায় ২ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ১ হাজার টাকা কর নির্ধারণ করা হতে পারে। এসব যানবাহনের লাইসেন্স নবায়নের সময় কর আদায়ের ব্যবস্থা করা হতে পারে বলেও আভাস মিলেছে।
এদিকে বাইক চালকরা বলছেন, বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের দাম আগে থেকেই অনেক বেশি। এছাড়া অনেকেই রাইড শেয়ারিং বা পণ্য পরিবহন সেবার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাই নতুন কর আরোপ করা হলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে। ঢাকার কয়েকজন বাইকচালক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যেই ট্যাক্স টোকেন ফি দিচ্ছেন, তাই নতুন করে অতিরিক্ত কর আরোপকে তারা অযৌক্তিক মনে করছেন।



