ডোনাল্ড লুর চাপে ইমরান খানকে অপসারণ করা হয়েছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রায় চার বছর পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে একটি গোপন কূটনৈতিক বার্তা বা ‘সাইফার’। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী সংস্থা ড্রপ সাইট নিউজ প্রকাশিত এই নথিকে ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ফাঁস হওয়া ওই কূটনৈতিক বার্তায় এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে—ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর ঘটনায় ওয়াশিংটনের পরোক্ষ ভূমিকা থাকতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
ইমরান খান আগে থেকেই দাবি করে আসছিলেন, তার সরকারের বিরুদ্ধে একটি বিদেশি ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশ ও বক্তব্যে তিনি ‘সাইফার’-এর প্রসঙ্গ তুলে বলেন, আন্তর্জাতিক চাপের কারণেই তার সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছে।
‘আই-০৬৭৮’ নামে পরিচিত ওই নথিতে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডোনাল্ড লু’র মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। বৈঠকটি হয়েছিল ২০২২ সালের মার্চে, অর্থাৎ ইমরান সরকারের পতনের প্রায় এক মাস আগে।
ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম—যেমন এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস এবং দ্য ইকোনমিক টাইমস—প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়ে ইমরান খানের নিরপেক্ষ অবস্থান ওয়াশিংটনের অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত না হওয়ায় সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
নথিতে ডোনাল্ড লু’র বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইমরান খানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট সফল হলে ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সূচনা করতে পারে। এই মন্তব্যই নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
সাবেক ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করার কারণেই তাকে ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, এ দাবির পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ কখনো উপস্থাপন করা হয়নি।
২০২২ সালে পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো প্রধানমন্ত্রী অনাস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে ক্ষমতা হারান। এরপর ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয় এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। দলীয় প্রতীক ‘ক্রিকেট ব্যাট’ বাতিল করা হয় এবং দলীয় ব্যানারে প্রার্থীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগও সীমিত করা হয়। যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পিটিআই-সমর্থিত অনেক প্রার্থী জয় পান, তবুও রাজনৈতিক অস্থিরতা পুরোপুরি কাটেনি।



