
বাংলা টিভি ডেস্ক: চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মনির হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার ১৬৪ ধারার জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে চার্জশিট জমা দেওয়ার তাগিদও দেন আদালত।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর উপ-কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া জানান, জবানবন্দিতে আসামি শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যানঘাটার বালুরমাঠ এলাকার ‘ভাই ভাই ডেকোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের পাশের গুদামে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত মনির ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ছিলেন। ঘটনার পর শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়রা মনিরকে আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানা-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। অভিযুক্তের বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা গ্রামে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে ঘিরে রাখে এবং পুলিশ তাকে থানায় নিতে গেলে বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এ সময় সড়ক অবরোধ, গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন।
পরে রাতের দিকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে পুলিশ কৌশলে আসামিকে সেখান থেকে সরিয়ে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আরও একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বর্তমানে শিশুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানিয়েছেন, শিশুটি এখন শঙ্কামুক্ত। ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।



