রাত হলেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে ভারতীয় গরু

বাংলা টিভি ডেস্ক: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে পদ্মা নদী দিয়ে ভারতীয় গরু চোরাচালান বেড়ে গেছে। রাত গভীর হলেই সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠে চোরাকারবারিরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ কেউ ভারতের ভেতরেও প্রবেশ করছে। কেউ আটক হচ্ছেন, আবার কেউ গুলিবিদ্ধ বা নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে, তবে চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।
স্থানীয় খামারিরা বলছেন, অবাধে ভারতীয় গরু ঢোকার কারণে তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেকেই ঋণ ও ধারদেনা করে খামার গড়ে তুললেও এখন ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। ফলে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
শিবগঞ্জের খামারি পলাশ উদ্দিন জানান, ভারতীয় গরুর কারণে তিনি বাধ্য হয়ে কম দামে গরু বিক্রি করেছেন। একই এলাকার জাহিদ হাসান বলেন, হাটে গরুর দাম না পাওয়ায় তার বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে।
অন্যদিকে খামার মালিকরা বলছেন, খাদ্যের দাম, রোগবালাই, গরম এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। তার ওপর বাইরে থেকে গরু আসায় তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই খামারিরা লোকসানের মধ্যে আছেন, এখন চোরাচালান পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলেছে। তারা সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবি জানিয়েছে, রাতের অন্ধকারে বিচ্ছিন্ন কিছু গরু ঢুকলেও সেগুলো জব্দ করা হচ্ছে এবং চোরাচালান ঠেকাতে কঠোর নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলায় কোরবানির জন্য পশুর সংখ্যা চাহিদার তুলনায় বেশি। তবে সীমান্ত দিয়ে আসা গরুর কারণে স্থানীয় খামারিরা তাদের ন্যায্যমূল্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।



