দেশবাংলাবাংলাদেশ

জেমস নিজে কেঁদে কাঁদালেন বরগুনা বাসীকে

|| বেলাল হোসেন মিলন||

বরগুনা স্টেডিয়ামে উন্নয়ন কনসার্ট কানায় কানায় পূর্ণ। আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর দিনে জেমসের অপেক্ষায় তখন অর্ধলক্ষ শোকাহত দর্শক। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মঞ্চে ওঠেন জেসম। হাজার হাজার দর্শকের মুখে উচ্চারিত হয় “গুরু গুরু”।

এরপরই সদ্য প্রয়াত প্রিয় বন্ধু-ভাই আইয়ুব বাচ্চুকে উন্নয়ন কনসার্ট উৎসর্গ করে গিটারে বেদনার সুর তোলেন জেমস।

বেদনার সেই সুরে হঠাৎ করেই স্তব্ধ হয়ে যায় হাজার হাজার দর্শক। জেমসের চোখে থেকে অঝোর ধারায় ঝরে অশ্রু। জেমসের সঙ্গে সঙ্গে অশ্রু ঝরে দর্শকদেরও।

এরপরই জেমসের জনপ্রিয় সেই “কবিতা” গানটি গাইতে শুরু করেন জেমস। গান গাইছেন জেমস, অঝোর ধারায় অশ্রু ঝরছে তার দু’চোখ দিয়ে। সেই দৃশ্য চোখ এড়ায়নি স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শকের।

কাঁদতে কাঁদতে গানের মাঝেই হঠাৎ করে বলে ওঠেন জেমস,”বন্ধুরা আমাকে ১০ মিনিট সময় দাও।” এই বলেই কাঁদতে কাঁদতে মঞ্চ থেকে থেকে নেমে যান তিনি।

স্টেডিয়াম জুড়ে তখন শুনশান নীরবতা। হাজার হাজার দর্শকের মধ্যেও টু শব্দ নেই। আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করে কেউ  অশ্রু ফেলছেন,আবার কেউ কেউ  অশ্রু শোকাচ্ছেন। নিজেকে সামলে খানিক বাদে আবার মঞ্চে ওঠেন জেমস। এরপর ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আবারো গান পরিবেশন করেন তিনি।

প্রসঙ্গত,ব্যান্ডের সোনালী দিনে অনেক ডুয়েট অ্যালবামে একসঙ্গে গান করেছেন আইয়ুব বাচ্চু ও জেমস। অনেক কনসার্টেও দুজনকে একসঙ্গে গাইতে দেখা গেছে বহুবার।

অনন্য শিল্পীরা গানে গানে স্মৃতিচারণে আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করেন “এই রূপালী গিটার ফেলে একদিন চলে যাবো দূরে বহুদূরে…..।”, “অভিলাষী আমি, অভিমানী তুমি………আর বেশি কাঁদালে উড়াল দেবো আকাশে।”, “সেই তুমি কেন এতো অচেনা হলে……তুমি ক্ষমা করে দিও আমায়।”

সদ্য প্রয়াত কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর জনপ্রিয় এই গানে গানে তাঁকে স্মরণ করেছেন বরগুনার উন্নয়ন কনসার্টের সঙ্গীত শিল্পীরা। সঙ্গীত শিল্পীদের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে জড়িয়ে আসা কণ্ঠে এই গান গেয়ে আইয়ুব বাচ্চুকে স্মরণ করেছেন কনসার্টে আগত আইয়ুব বাচ্চুর অর্ধলক্ষ ভক্ত ও শ্রোতা।

কিংবদন্তি এই সঙ্গীত শিল্পীর মৃত্যুর দিনে তার ভক্তরা কেউ বা এসেছেন কালো ব্যাচ ধারণ করে আবার কেই কেউ এসেছেন শোক জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুনে লিখে নিয়ে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে বরগুনা জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বরগুনা স্টেডিয়ামে এ উন্নয়ন কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন দেশের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী জেমস, বাপ্পা মজুমদার, পুলক এবং মেহেরীনসহ বরগুনার স্থানীয় শিল্পীরা।

আইয়ুব বাচ্চুর স্মৃতিচারণ করে উন্নয়ন কনসার্টে সঙ্গীত শিল্পী পুলক বলেন,” গত কয়েকদিন আগেও আমরা এই উন্নয়ন কনসার্টে একই মঞ্চে গান গেয়েছি। আগামী কয়েক দিন পরেও একই মঞ্চে আমাদের আবারো গান গাওয়ার কথা ছিল। অথচ তিনি হঠাৎ করে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছেন। তাঁকে ভীষণ মনে পড়ছে আমার।”

কণ্ঠশিল্পী মেহেরীন বলেন, “বাচ্চু ভাই নিজেই সঙ্গীত ছিলেন। তিনি সঙ্গীত হয়েই আমাদের মাঝে সারাজীবন বেঁচে থাকবেন। আমার মত কোটি কোটি ভক্তের হৃদয়ে চিরজীবী হয়ে থাকবেন তিনি।”

বরগুনার উন্নয়ন কনসার্টে আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করে বাপ্পা মজুমদার বলেন,”আমি সেই সময়ে গান শুনেছি বাংলাদেশের,যেই সময়ে আইয়ুব বাচ্চু ভাই গান গেয়েছেন। আমি সেই সময়ের সাক্ষী,যেই সময়ে বাচ্চু ভাইকে দেখেছি দুর্দান্ত গিটা বাজাতে। মন্ত্রে মুগ্ধের মতো শুনেছি আমি সেই গিটারের শব্দ। আমি অনেক মর্মাহত।

আইয়ুব বাচ্চুর নাম নিতে গিয়ে চাপা কান্নায় কথা হারিয়ে ফেলেন জেমস। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে বলেন, “বাচ্চু ভাইয়েরই একটা কথা মনে পড়ে গেল। একটা গল্প বলি। অনেক আগে একটা শোতে হাস্যোজ্জ্বল বাচ্চু ভাই বলেছিলেন- যাই হোক শো ইজ মাস্ট অন! আজও অন। আমি চেষ্টা করছি।’ এরপর জেমস বাচ্চুর স্মরণে গিটারে সুর তোলেন। সেই সুরেও ছিল কান্না। তিনিও কাঁদছিলেন আর কাঁদিয়েছেন অর্ধলক্ষ দর্শকদেরও।

বাংলাটিভি/এসএম/এবি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close