আইন-বিচারবাংলাদেশ

গ্যাটকো মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যে কোম্পানিটির পরিচালক সৈয়দ গালিব আহমেদ ও সৈয়দ তানভীর আহমেদকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

পাশাপাশি মামলাটির বিচার আগামী ৬ মাসের মধ্যে শেষ করতে নিম্ন আদালতকে (বিচারিক আদালত) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা বাতিল প্রশ্নে ইতিপূর্বে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রোববার বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

এর আগে মামলা বাতিলে তাঁদের আবেদনের শুনানি ১১ নভেম্বর শেষ হয়। মামলাটিতে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও আসামি।

আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

অপরদিকে সৈয়দ গালিব আহমেদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি ও সৈয়দ তানভীর আহমেদের পক্ষে আইনজীবী আহসানুল করিম।

পরে এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, মামলা বাতিলের জন্য মহামান্য হাইকোর্টে আবেদন করলে হাইকোর্ট এই বিষয়ে ২৯ জুলাই ২০০৮ সালে মামলাটি বাতিলের রুলনিশি জারি করেন। এ ছাড়া মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে আসামিদের জামিন প্রদান করেন। এ কারণে দীর্ঘ ১০ বছর মামলাটির ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৩-এ কার্যক্রম বন্ধ আছে।

আমিন উদ্দিন আরো বলেন, ‘আজ রুল খারিজ করে ইতিপূর্বে দেওয়া স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়। আসামিদ্বয়কে দুই সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ ও নিম্ন আদালতকে ৬ মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে খালেদা জিয়ার গ্যাটকো মামলার বিচার নিম্ন আদালতে চলতে আর কোনো বাধা রইল না।’

জানা যায়, অনভিজ্ঞ ও অদক্ষ গ্যাটকো কোম্পানিকে বেআইনি/দুর্নীতি/ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাজটি পাইয়ে দিয়ে নিজ এবং অন্যদের মূল্যবান লাভ/আর্থিক সুবিধা প্রদান করার মাধ্যমে সরকারের এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতি সাধনের অপরাধে দুদকের উপপরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী ২০০৭ সালের গত ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তাঁর ছোট ছেলে (মৃত) আরাফাত রহমান কোকো, তৎকালীন নৌপরিবহনমন্ত্রী (মৃত) আকবর হোসেন, তার ছেলে ইসমাইল হোসেন সায়মন, সৈয়দ গালিব আহমেদ, সৈয়দ তানভীর আহমেদসহ ১৩ জনকে আসামি করা হয়।

পরে দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল হুদা তদন্ত করে ২০০৮ সালের ২৩ মে ২৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘদিন মামলাটিতে স্থগিতাদেশ থাকায় বিশেষ আদালতে চার্জ শুনানি করাও সম্ভব হয়নি।

বাংলাটিভি/এসএম/এবি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close