জাতীয় নির্বাচনবিএনপিরাজনীতি

হাইকোর্টের বিভক্ত আদেশে ঝুলে গেলো খালেদা জিয়ার ভোটভাগ্য

প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা প্রচারে নেমে গেলেও, কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার ভোটের রাস্তা খুললো না। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নে বিভক্ত আদেশ এসেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে। বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের হাইকোর্টে বেঞ্চে  সোমবার ওই আবেদনের ওপর শুনানি হয়। তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়া। কিন্তু মঙ্গলবার এই বেঞ্চ থেকে দ্বিধা বিভক্ত আদেশ আসে।

বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ইসিকে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করার নির্দেশ দিতে রুল জারি করেন। খালেদার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চাওয়া হয় রুলে।

অন্যদিকে, বিচারপতি মো. ইকবাল কবির-এর সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করলে খালেদার ভোটের ভাগ্য আটকে যায়। এখন নিয়মানুসারে বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তারপর প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে শুনানির জন্য তৃতীয় একটি বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। সেই বেঞ্চই এ বিষয়ে চূড়ান্ত আদেশ হবে।

এদিকে, দণ্ডিত ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাওয়া সংবিধান বিরোধী বলে জানিয়েছেন, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

বিএনপি চেয়ারপার্সন কারাবন্দি খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে গতকাল সোমবার শুনানি শেষে সৈয়দ রেফাত আহমেদ ও ইকবাল কবিরের বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার আদেশের দিন ঠিক করেন।

এর আগে, দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার পক্ষে ফেনী-১, বগুড়া-৬ এবং বগুড়া-৭ আসনে মনোনয়ন ফরম জমা দেয়া হয়। পরে দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এরপর খালেদা জিয়ার পক্ষে তাঁর আইনজীবীরা গেল ৫ই ডিসেম্বর রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। আপিলের পর গেল শনিবার নির্বাচন কমিশন শুনানি শেষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল বলে রায় দেয়।

এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার আদেশ চেয়ে রবিবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। সোমবার বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমদ এবং বিচারপতি মোহাম্মদ ইকবাল কবীরের বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হয়।

বাংলাটিভি/এমআরকে

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close