তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার সিরিয়াস: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

বাংলা টিভি ডেস্ক: তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার আগ্রহী এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়। তবে পরিকল্পনাটিতে কিছু পরিবর্তন আনার বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ কারণে নতুন করে কিছু কাজ করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, আগের পরিকল্পনায় মূলত নদীশাসন, নদীভাঙন রোধ এবং ভূমি পুনরুদ্ধারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। বর্ষা মৌসুমে তিস্তার পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীর কোথাও কোথাও প্রস্থ ৫ থেকে ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। পরিকল্পনার আওতায় নদী খনন, তীর সংরক্ষণ এবং নদীর গতিপথ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ভাঙন কমিয়ে আশপাশের ভূমি পুনরুদ্ধারের চিন্তা ছিল।
উপদেষ্টার ভাষ্য, নদীর বিস্তৃতি যদি প্রায় এক কিলোমিটারের মধ্যে আনা সম্ভব হয়, তাহলে বর্ষায় পানিতে ডুবে যাওয়া বা নদীগর্ভে বিলীন হওয়া অনেক জমি পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে এখন পরিকল্পনায় পানি সংরক্ষণের বিষয়টিও যুক্ত করা যায় কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন বলে জানান জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, পদ্মা ব্যারাজের পরিকল্পনার মতো বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তা ব্যবহারের বিষয়টি তিস্তা পরিকল্পনায় বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে তিস্তায় পানি সংরক্ষণ করা তুলনামূলক কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কারণ নদীটি অত্যন্ত খরস্রোতা এবং দ্রুত পানি নেমে যায়। তারপরও বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে একটি কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন বলে মত দিয়েছেন।
ফলে তিস্তা মহাপরিকল্পনায় শুধু নদীভাঙন রোধ নয়, পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করা যায় কি না—সেই সম্ভাব্যতাও নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার অর্থায়ন প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রকল্পের অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
চীন, বাংলাদেশ কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে অর্থায়ন হবে কি না, তা পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, অর্থায়নের বিষয়টি এখনো উন্মুক্ত রয়েছে এবং বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিদেশি কোনো উৎস থেকে অর্থ নেওয়া বাংলাদেশের জন্য সুবিধাজনক হবে কি না, কিংবা নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে কী সুবিধা হবে—এসব বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, সরকার দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়েই তিস্তা মহাপরিকল্পনার অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।



