জাতীয় নির্বাচনরাজনীতি

ভোটের মাঠ থেকে সরে দাড়ালেন লতিফ সিদ্দিকী, ইসি ব্যর্থ মন্তব্য

সিইসির সঙ্গে দেখা করে আমি তাঁকে বলে দিয়ে আসলাম, আপনি স্বীকার করুন আর না করুন। আপনি ব্যর্থ।  নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে এমন মন্তব্য করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা স্বতন্ত্র প্রার্থী লতিফ সিদ্দিকী।

আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার সঙ্গে দেখা করে সাবেক এই মন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের সাথেও কথা বলেন।

এসময় লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘চিফ ইলেকশন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেছি। কিছুই চাইনি। আমি কিছু চাওয়ার লোক না। আমি বলে আসলাম, আপনি যে পরিচালনাটা করছেন। এই পরিচালনায় আপনি ব্যর্থ। এই পরিচালনায় নির্বাচন হতে পারে না। তাই আমি মাঠ ছেড়ে দাঁড়ালাম।’

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিকী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি আর নির্বাচন করছি না। কারণ, মাঠ নির্বাচন করার মতো সমতল নয়। মাঠ এমনই সমতল যে পুলিশের বুটের তলে পড়তে হয়। আর সন্ত্রাসীদের লাঠির আঘাত খেতে হয়। আমার অফিস ভেঙে দিয়েছে। আমার নিরীহ লোকদের প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার করছে। যারা সমর্থক, তাদের পুলিশ প্রতিনিয়ত টেলিফোন করে ভয় দেখাচ্ছে। এর পড়ে ইলেকশন করা যায় নাকি?

সাবেক এই মন্ত্রী আরো বলেন, ‘এখন তো আর প্রত্যাহারের সুযোগ নেই। তাই আমি সরে দাঁড়ালাম। আমি নিরীহ মানুষকে আহত, নিহত হওয়ার সুযোগ কেন করে দেব? যারা আহত-নিহত হবে, তাদের দায় আমাকে নিতে হবে। আমি সেই দায় নেব না। আমি এত বড় বীরপুরুষ হতে চাই না। এটা স্বাধীনতা যুদ্ধ না যে মুখোমুখি লড়াই করব। যার সঙ্গে লড়াই করব, সে আমারই কর্মী কিংবা কর্মীর সন্তান। আমি কেন যাব এ ধরনের হানাহানিতে? যদি নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে না পারে।’

কমিশনের পক্ষ থেকে কী বলা হলো—জানতে চাইলে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘কিছুই বলা হয়নি। আমি তো তাঁর কাছে শুনতে চাই নাই। আমি বলেছি, এক মিনিট আপনার সঙ্গে দেখা করে চিঠি দিয়ে চলে যাব।’

নিজ নির্বাচনী এলাকার ওসির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে বলেও উল্লেখ করেন লতিফ সিদ্দিকী। ওসির প্রত্যাহার চান কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন আর কিছুই চাই না। এখন আর সময় আছে নাকি? আমি নিজেকেই মাঠ থেকে সরিয়ে নিয়েছি। কার কাছে কী চাইব? এ দেশে চাইলেই কিছু হয় না। ঘটনাক্রমে ঘটে।’

বাংলাটিভি/এমআরকে

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close