অপরাধআইন-বিচারআওয়ামী লীগবাংলাদেশশোক সংবাদ

বিভীষিকাময় ২১শে আগস্ট

 

২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।  বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেও সে হামলায় নিহত হন দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মী।  আহত হয়, প্রায় ৩০০ জন।  ভয়াবহ সে হামলায় আহতরা এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন দুর্বিসহ স্মৃতি আর ক্ষতচিহ্ন। এখন শুধু হামলাকারীদের বিচারের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় তারা।

পৃথিবীতে কখনো দিন আসে সূর্যের প্রখর তীব্রতা নিয়ে, আবার কখনো তা অমাবস্যার অন্ধকারে ছেয়ে থাকে।  ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যখন বাতাসে ভেসে আসছিল ফজরের আজানের ধ্বনি, ঠিক তখনি ইতিহাসের কালপুরুষ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে কিছু বিপথগামী সেনা সদস্য।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাবন্দী জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যার পরবর্তী সময়ে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো, ৮৯ সালের ১১ আগস্ট রাতে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে গুলিবর্ষণ ও গ্রেনেড হামলা, ৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডি স্কুলে গুলি বর্ষণ, ৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী ও নাটোর রেলস্টেশনে প্রবেশের মুখে ট্রেনের কামরা লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া, ৯৫ সালের ৭ ডিসেম্বর, ৯৬ সালের ৭ মার্চ, ২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালিপাড়ায় জনসভাস্থলে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখাসহ বিভিন্ন সময় মোট ১৯ বার হত্যা চেষ্টা করা হয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।

সর্বশেষ ২০০৪ সালের একুশে আগস্ট, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞ চালায় হরকাতুল জিহাদের একদল জঙ্গি।  যা ছিল ছয় বছর ধরে এই জঙ্গিগোষ্ঠীর হামলা ও শেখ হাসিনাকে হত্যার ধারাবাহিক চেষ্টার এক চূড়ান্ত রূপ।

এ দিন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে লক্ষ্য করে তিনপাশ থেকে আটটি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়।  একের পর এক গ্রেনেড বিস্ফোরণে রক্তবন্যায় পরিণত হয় সমাবেশস্থল।  তৈরি হয় বিভীষিকাময় পরিবেশ।  চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে মানুষের দেহ।  ভয়াবহ সেই হামলায় প্রাণ হারান তৎকালীন মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন।

স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির ক্রমাগত এসব আক্রমণ বার-বার স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছে বাঙালী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে ।

এক যুগ পর এখনো অনেকে শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছেন সেদিনের স্প্লিন্টারের যন্ত্রণা।

আহতরা জানান নিজেদের শেষ ইচ্ছের কথাও।

বাংলাটিভি/শহীদ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close