অন্যান্যবাংলাদেশ

ফেনী নদীর পানি ত্রিপুরায় সরবরাহ করতে চায় ভারত

সৌরভ নূর : ৫০০ টন ইলিশ রফতানি অনুমতির চার দিন পরই ভারতীয় পেঁয়াজ বাংলাদেশে রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত দেয় নয়া দিল্লি। ফলে সরবারাহ না থাকায় দেশজুড়ে পেয়াজের দাম বেড়েছে চার গুণ। এরই মধ্যে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে এখন নয়া দিল্লি অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলোচনা হবে বিভিন্ন বিষয়ে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ভারতের হায়দারাবাদ হাউজে শুরু হয়েছে ঢাকা-নয়া দিল্লি দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠক।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে তিস্তা নিয়ে কোনো অগ্রগতি না হলেও ফেনী নদীর পানি ইস্যুতে নতুন ঘোষণা আসতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এর আগে এই বিষয়ে প্লট তৈরিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং তার আগে ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব উপেন্দ্র প্রসাদ সিং ঢাকা সফর করে গেছেন।

২০১১ সালে দুই দেশের মধ্যে তিস্তা চুক্তি নিয়ে সমাঝোতা হলেও এখন পর্যন্ত তার বাস্তবায়ন নেই। প্রতিটি সফরের আগে-পরেই দেখা যায়, বাংলাদেশ তিস্তা বিষয়ে আশাবাদ ব্যাক্ত করছে। কিন্তু ভারতীয় পক্ষে এ বিষয়ে কোনো সাড়া দেখা যায় না।

৭৪তম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড লাইনে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে যে বৈঠক হয়, সেখানেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে ভারতীয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিস্তা নিয়ে কোনো কথাই উল্লেখ করা হয় নি। আবার ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতেও তিস্তার কোনো উল্লেখ নেই।

নয়া দিল্লি যাওয়ার আগে এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, এটা ঠিক যে ২০১১ সালে তিস্তা বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও তা কার্যকর হয়নি। আমরা বিষয়টি আবার উঠাব (রেইজ করব)।

এর আগে, ২০১৫ সালের জুনে বাংলাদেশ সফর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই সফরে দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফেনী নদীর পানি চান নরেন্দ্র মোদি। তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘তিস্তায় পানি এলে ভারত ফেনীর পানি পাবে।’

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশর ফেনী নদী থেকে পানি নিয়ে ত্রিপুরার জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ খাবার পানি সরবরাহ করতে চায় ভারত। এই শীর্ষ বৈঠকে এ বিষয়ে বিশেষ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে তারা ধারণা দেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button