দেশবাংলা

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে পদ্মার ভাঙন

নদী ভাঙনে দিশেহারা মুন্সীগঞ্জের পদ্মা পাড়ের মানুষ। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে রাক্ষসী পদ্মা রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছে। পদ্মার ক্রমাগত ভাঙনে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বিন্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

গত ১০ দিনের ভাঙনে উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের শতাধিক ঘরবাড়ি, প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা, রাস্তাঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা একের পর এক পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে নেই কোন কার্যকরী উদ্যোগ।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, প্রতি বছরই পদ্মার ভাঙনের কবলে পড়তে হয় উপজেলার হাসাইল বানারী, কামারখাড়া, দীঘিরপাড়, পাঁচগাঁও ইউনিয়নের বড়াইল, গারুগাঁও, চৌসার, বাগবাড়ি, জুসিয়া এলাকাসহ ১৫ টির মত গ্রামে।

সরেজমিনে এইসব গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, ভাঙনকবলিত মানুষ সড়কের পাশে উম্মোক্ত আকাশের নিচে বসবাস করছেন। গত এক সপ্তাহের ভাঙণে হাসাইল ইউনিয়নের হাইয়ারপারের জামে মসজিদের কিছু অংশ বিলিন হয়ে গেছে। এখন গোটা মসজিদ এখন বিলিন হওয়ার পথে।

কামারখাড়া-হাইয়ারপাড়ের এলাকাবাসী জানান, এই গ্রামের ৪ টি বাড়ী বিলিন হয়ে গেছে। তারা এখন পাশের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন। সেখানে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, পদ্মা নদী হতে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এলাকাবাসীর চাপের মুখে এখন মাটিকাটা বন্ধ রয়েছে।

এদিকে পদ্মার ভাঙ্গন প্রতিরোধে গত ৪ মাস আগে বালির বস্তা ফেলা হয়েছিলো। এরপর থেকে ভাঙন প্রতিরোধে প্রশাসন থেকে আর কোন উদ্যোগ নেই। এলাকাবাসী ভাঙ্গন প্রতিরোধে বাধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে টঙ্গিবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জগলুল হালদার ভুতুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, পদ্মানদীর ভাঙ্গণ থেকে হাসাইল, কামারখাড়া পাচগাও, দিঘিরপাড় এইসব ইউনিয়ন সুরক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ৬০০ কোটি টাকার বাধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মোঃ মোস্তফা, মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close