দেশবাংলা

মেহেরপুরে বেড়েই চলেছে সিজারিয়ান অপারেশন

অভিভাবকদের অসচেতনতা সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের অনীহা আর বেসরকারি ক্লিনিকের অর্থলিপ্সার কারণে, মেহেরপুরে দিনদিন বেড়েই চলেছে সিজারিয়ান অপারেশন। এতে একদিকে যেমন অতিরিক্ত অর্থের অপচয়, অন্যদিকে প্রসূতির স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

ব্যহত হচ্ছে-সরকারী পদক্ষেপ ‘সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য সর্বত্র’। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলছেন,সরকারী হাসপাতালের ডাক্তারদের অনীহার কারণেও, প্রসূতীরা ক্লিনিকমূখী হচ্ছেন।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামের গৃহবধু রজনী কন্যা সন্তানের মা হয়েছেন সিজারিয়ান অপারেশনে। তার প্রথম সন্তানের সময় সিজার করানোর কারণে, এবার বাধ্য হয়েই সিজার করাতে হয় তাকে।

প্রথম সন্তান প্রসবের সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাদের নানা অজুহাতে ডেলিভারী না করিয়ে, ক্লিনিকে যেতে বলা হয়। বাধ্য হয়ে ক্লিনিকে ভর্তি হয়ে অপারেশন করান তিনি। রজনীর পরিবারের সদস্যরা জানায় আগামী তিন মাস সংসারের কাজ করতে বারণ করেছেন চিকিৎসকরা।

শুধু রজনী নয়, তার মতো শুধুমাত্র গাংনী  উপজেলাতেই গত ১০ মাসে সিজার করিয়েছেন ৭২৮ জন প্রসূতি। তবে সরকারি হাসপাতালে নয়, সব হয়েছে ক্লিনিক গুলোতে। প্রসব জনিত সমস্যা না থাকলেও নানা ভয়ভীতি, মায়েদের সন্তান প্রসবের যন্ত্রণা আর সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের ঝুঁকি না নেয়ায়, সিজার করছেন প্রসূতিরা।

বিভিন্ন কারণে রোগিরা সরকারি হাসপাতালের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলায় দিনদিন ক্লিনিক মূখী হচ্ছেন রোগিরা। সন্তান প্রসবের সময় হাসপাতালে সব ধরনের সুবিধা থাকে না বলেও মনে করেন চিকিৎসকরা।

এ বিষয়ে পরিত্রাণ পেতে সিজারিয়ান অপারেশনের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভূক্তি জরুরী বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close