পেঁয়াজ নিয়ে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন

বাঙালির খাবারে রসদ বাড়ানোর অন্যতম অনুষঙ্গ পেঁয়াজ। মাছ, মাংস কিংবা সবজি, ডালসহ অধিকাংশ রান্নায় ব্যবহৃত হয় এটি। বর্তমান বাজারে পেঁয়াজের দাম অতীতের সব রেকর্ড ভেঙ্গেছে। প্রতি বছর লোকসান হলেও এবার ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সিরাজগঞ্জের চাষীরা।
কৃষি বিভাগ বলছেন, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদন করেও উৎপাদন মৌসুমে কম মূল্য থাকে বলে ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষক।
গত একমাস যাবৎ বাজারে পেঁয়াজের দাম যেন আকাশচুম্বি। সিরাজগঞ্জেও বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি আড়াই’শ টাকার ওপরে। তাই সব মহলেই গুরুত্বপূর্ণ এখন পেঁয়াজ। এদিকে ক্রেতাদের কাছে ঝাঁঝালো পেঁয়াজেই লাভের আশা দেখছেন স্থানীয় চাষীরা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্ত্বেও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চর হরিপুর গ্রামের কৃষকরা সাধ্যমতো চাষ করেছেন পেঁয়াজ। উদ্দেশ্য আগাম উৎপাদন করে পণ্য বাজারে তোলা। বীজের অধিক দাম হওয়ায় বিঘা প্রতি ৫০ হাজার টাকা খরচ হলেও পেঁয়াজ চাষে থেকে থাকেননি তারা। দু’এক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে তুলবেন ডাটা পেঁয়াজ।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা ছাড়াও কামারখন্দ, কাজিপুর, কামারখন্দ, বেলকুচি, উল্লাপাড়া ও শাহজাদপুরে পেঁয়াজ চাষ হয়। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ৪১ হাজার মেট্টিক টন চাহিদার বিপরীতে চাষ হয় ১০ হাজার মে.টন। এ বছর পর্যায়ক্রমে ১ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করা হবে।
প্রথম পর্যায়ে ৩শ হেক্টর জমিতে ডাটা পেঁয়াজ উৎপাদন করা হচ্ছে। যা আগামী ২/৩ সপ্তাহের মধ্যে বাজারে আসবে। পরবর্তীতে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারীর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ৭শ হেক্টর জমিতে গুটি পেঁয়াজের বীজ চাষ করা হবে।
উৎপাদন মৌসুমে দেশের বাজারে গুটি পেঁয়াজে সয়লাব হয়ে যায়। ফলে দাম কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষক বললেন, সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল হক।
মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উৎপাদন করে পণ্যের নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন কৃষক। আর সিন্ডিকেটের মধ্যেমে মুনাফা লুটেরাদের বিরুদ্ধে কঠো ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সংশ্লিষ্টদের।
মাহমুদুল হাসান উজ্জল, সিরাজগঞ্জ



