দেশবাংলা

কোটি টাকার বাগান হারিয়ে দিশেহারা ওমান প্রবাসী

খাগড়াছড়িতে, নিজের কোটি টাকার বাগান হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তৌহিদুল আলম নামে এক ওমান প্রবাসী। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দেশে বিনিয়োগ করে, সম্পদ হারানোর পাশাপাশি নিজের জীবন নিয়েও চরম ঝুঁকির মধ্যে দিনযাপন করছেন এই প্রবাসী।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির রাংগামাটিয়া গ্রামের ওমান প্রবাসী তৌহিদুল আলম। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অর্জিত অর্থ দেশে বিনিয়োগ করে এখন চরম হুমকির মাঝে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। দেশের প্রচলিত আইননুসারে একজন প্রবাসী তার দেশের সহায় সম্পদ রক্ষায় সরকারের সকল বিভাগ থেকে সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ এই প্রবাসীর।

গত ২০১৪ সালে খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষীছড়ির পাহাড়ি বন থেকে তৌহিদুল আলমের প্রায় কোটি টাকার গাছ কেটে সাবাড় করে স্থানীয় বনদস্যু শামসুল আলম ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। নিজের কোটি টাকার সম্পদ হারিয়ে ভুক্তভোগী অভিযোগ দেন বাংলাদেশ দূতাবাস ওমান ও বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে, সেইসাথে লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয় থানায়।

এইসব অভিযোগে কোনো প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে মামলা করেন বনদস্যু সামসুল আলমের বিরুদ্ধে। মামলার বিচারের রায় ঘনিয়ে এলে সন্ত্রাসী বাহিনী মামলা তুলে নিতে নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে বলে এমন অভিযোগ উঠেছে। মামলা না তুললে প্রাননাশের ও হুমকি দিচ্ছে বলে এমন অভিযোগ করে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় আরও একটি সাধারণ ডায়েরী করেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ঘটনাস্থলে গেলে এর সত্যতা পাওয়া যায়। স্থানীয় পাহাড়ি বাসিন্দারাও এর সত্যতা স্বীকার করেন। তবে সামসুল আলমের ভয়ে ক্যামেরার সামনে কেউই মুখ খুলতে রাজি নন।

জানাগেছে সামসুল আলম নাকি এলাকার খুবই প্রভাবশালী। বিভিন্ন অপকর্মের কারণে ইতোপূর্বে জেল ও খেটেছেন বেশ কয়েকবার। এব্যাপারে লক্ষীছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীরের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা খোজ-খবর নিচ্ছি এবং আমরা এ বিষয়ে তৎতপর আছি। এব্যাপারে অভিযুক্ত সামসুল আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া মেলেনি।

সুত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ির লক্ষীছড়ি বাংলাদেশের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে একটি, যে এলাকায় পাহাড়ি সন্ত্রাসী বাহিনী আর বনদস্যুদের কারণে আতংকে থাকেন স্থানীয় জনগণ। এইসব অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হক এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close