দেশবাংলা

৪৮ বছর ধরে নবীগঞ্জ মুক্ত দিবসটি নীরবেই কেটে যায়

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও লালমনিরহাট মুক্ত দিবস আজ। ১৯৭১ সালের এ দিনে পাক হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয়েছিল এ সব এলাকা। সেক্টরের মিলিটারি ফোর্স, সশস্ত্র গেরিলা বাহিনী ও মিত্র বাহিনীর ত্রিমুখী আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, এদেশীয় রাজাকার, আলবদর ও তাদের সহযোগীরা বিপর্যস্ত ও ছত্র ভঙ্গ হয়ে পড়ে। আর মুক্ত হয়, নবীগঞ্জ, ঝিনাইদহ ও লালমনিরহাট ।

১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধারা পাক বাহিনীকে হটিয়ে মুক্ত করেছিলো কয়েকটি জেলা উপজেলা। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও নবীগঞ্জ মুক্ত দিবসটি নীরবেই কেটে যায়। সরকারী বা বেসরকারী কোন সংগঠনের পক্ষ থেকেও এ দিনের কোন কর্মসূচি পালন করা হয়না।

ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে এ উপজেলা মুক্তির ইতিহাস একেবারেই অজানা। তাই সরকারী বা বেসরকারীভাবে এ দিবসটি পালনের দাবি মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি ও সুশিল সমাজের।

মুক্তিপাগল দামাল ছেলেরা দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ শেষে ৬ ডিসেম্বর পাক হানাদার ও তাদের এদেশের দোসরদের হটিয়ে ঝিনাইদহকে শত্রুমুক্ত করে। মুক্তির আনন্দে সেদিন রাস্তায় নেমে আসে নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষ। এসব যুদ্ধে অনেক মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। কিন্তু তাদের কবর আজও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

রেলওয়ে বিভাগীয় শহর লালমনিরহাট ছিল বিহারী অধ্যুষিত এলাকা। এদের সহযোগিতায় পাক হানাদার নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। পৈশাচিক নির্যাতন করে হত্যা করেছিল বাংগালী নারীদের। রেলওয়ে রিক্সা স্ট্যান্ড ও বর্তমানে বিডিআর ক্যাম্পে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে লাশগুলা ফেলে দিয়েছিল যত্রতত্র।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা সঠিকভাবে প্রনয়ণ করে তাদের পুনর্বাসনে আরো বেশী ভুমিকা নেয়াসহ, মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতি বিজড়িত স্থান ও গণকবরগুলো চিহ্নিত ও সংস্কারের দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের।

এদিকে, ৬ ডিসেম্বর  মুক্ত হয়েছিল ফেনী জেলা। মুক্তিযুদ্ধে জেলার অনেকগুলো রণাঙ্গনের মধ্যে মুন্সীর হাটের মুক্তারবাড়ী ও বন্ধুয়ার প্রতিরোধের যুদ্ধ ইতিহাস খ্যাত। এ রণাঙ্গনে সম্মুখ সমরের যুদ্ধকৌশল বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানী মিলিটারী একাডেমীগুলোতে পাঠ্যসূচীর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

যা রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের গর্বের বিষয়।যুদ্ধে পাকবাহিনী ফেনী সরকারী কলেজসহ বিভিন্নস্থানে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। পরে শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ফেনী কলেজ মাঠে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ ও জেল রোডের পাশে, শহীদদের নামের তালিকাসহ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্তম্ভ নির্মান করা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button