দেশবাংলা

গৃহকর্মীর কাজ দেয়ার কথা বলে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি

বিয়ের সাত মাসের মাথায় স্থানীয় আদম ব্যাপারীর প্রলোভনে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল সৌদি আরবে পাড়ি জমান এক তরুণী। তাকে গৃহকর্মীর কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দাম্মামে পৌঁছানোর পর তিনি জানতে পারেন, চার লাখ টাকায় তাকে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।

এর পর থেকে যৌনকর্মে রাজি না হলে তার ওপর চালানো হত নির্যাতন। একটি অফিসে রেখে প্রতিদিন কয়েকজন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করত।

তরুণীর জানায়, ‘জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে আমার বুক, গোপনাঙ্গ ও শরীরের বিভিন্ন জায়গা ওরা পুড়িয়ে দিয়েছে। তার দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে হাত-পা ও উরুতে জখম করে দিয়েছে। দলবেঁধে ৪/৫ জন মিলে ধর্ষণ করত, তখন জ্ঞান হারিয়ে ফেলতাম।’

অসুস্থ হয়ে পড়ায় এক সময় সৌদি আরবের পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। সে সময় গোপনে তিনি আহত হওয়ার ছবি দেশে পাঠান। শেষ পর্যন্ত কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হন ওই তরুণীর স্বামী। প্রশাসনের তৎপরতায় ছয় মাস ২৬ দিন পর দেশে ফেরেন তিনি।

সৌদি আরব থেকে ফিরে নিজের ওপর রোমহর্ষক নৃশংস নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন মৌলভীবাজারের ওই তরুণী। নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে মূর্ছা বারবার যান ওই তরুণী। মানসিকভাবেও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি। মাঝে মাঝে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আবোল-তাবোল বকছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ৯ নম্বর ইসলামপুর ইউনিয়নে বাড়ি ২০ বছর বয়সী ওই তরুণী। গত ২৬ নভেম্বর সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার দুদিন পর শ্রীমঙ্গলের ‘মুক্তি মেডিকেয়ার’ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা শেষ না করেই রবিবার তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। তার গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নির্যাতনের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন, চিকিৎসকরা।

ওই হাসপাতালের প্রধান সেবিকা দীপ্তি দত্ত গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মেয়েটার যৌনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পোড়া ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ক্ষতগুলো সারতে সময় লাগবে।’ হাসপাতলের চিকিৎসক সাধন চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘মাঝে মাঝে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আবোল-তাবোল বকছিলো। দ্রুত তাকে মানসিক চিকিৎসা দেয়াও প্রয়োজন।’

এখনও অনেক বিপদগ্রস্ত নারী সৌদি আরবে রয়ে গেছেন জানিয়ে তাদের উদ্ধার করার জন্য সরকারের কাছে আকুতি জানান ওই নির্যাতিতা তরুণী। সেই সঙ্গে ওই চক্রের হোতাদের শাস্তি দাবি করেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close