দেশবাংলা

মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙ্গনে হুমকির মুখে ২৫ গ্রাম

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উরফি ইউনিয়নের চারটি গ্রামে মধুমতি নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গন। আর এর প্রভাব পড়ছে আশপাশের ২৫টি গ্রামে। নদী ভাঙ্গনে দিনদিন বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, ফসলী জমি, পাকা রাস্তা। হুমকির মুখে রয়েছে মানিকহার ব্রিজ, মাদ্রাসা ও নদী তীরের অসংখ্য ঘরবাড়ি।

দীর্ঘ ১০ বছর যাবত প্রতিবছর এ এলাকা নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়লেও এখনও পযন্ত নেয়া হয়নি স্থায়ী কোন প্রতিরক্ষা  ব্যবস্থা।

গোপালগঞ্জ সদরে মধুমতি নদীর তীর ঘেষে গড়ে উঠেছে মানিকহার, মধুপুর, ডুমদিয়া এবং উরিফি চরপাড়া। নদীর তীরে বসবাস মানুষের জন্য সুখের হলেও, উরফি ইউনিয়নের মধুমতির তীরের এ গ্রামগুলোর জন্য হয়েছে অভিশাপ।

নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উরফী ইউনিয়নের উরফী বাজার এলাকা হতে উরফী চরপাড়া হয়ে ডুমদিয়া পর্যন্ত, প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে।

নদী ভাঙ্গনে ওই এলাকার মাটির রাস্তা, পাকা রাস্তা, বসতবাড়ি, মাদ্রাসার জায়গা, নদীর পাশ্ববর্তী গাছপালা বর্ষা মৌসুমে নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গন এলাকার ৫ কিলোমিটার রাস্তায় চলাচলের হাটা ছাড়া কোন প্রকার যানবাহনের ব্যবস্থা নেই। আর রাত কাটছে অজানা আশংকায়।

ভাঙ্গন এলাকায় মধুমতি নদীর ওপর এলজিইডির নির্মিত মানিকহার ব্রীজটি হুমকীর মূখে পড়েছে। স্থায়ী প্রতিরক্ষায় কাজ না করলে, মানিকহার ব্রীজটি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভবনা  রয়েছে। আর ব্রিজটির ক্ষতি হলে উরফী, পাইককান্দিসহ কয়েকটি ইউনিয়নের অন্তত ২৫ গ্রামের মানুষের শহরে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে।

বাড়ীঘর ও শেষ সম্বল বাঁচাতে ও ভাঙ্গন ঠেকাতে করতৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর আশ্বাস দিয়েছেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য।

বছরের পর বছর মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে নি:স্ব হচ্ছে নদীপাড়ের বাসিন্দারা। তাই ভাঙ্গন ঠেকাতে নদী শাসন ও স্থায়ী বাঁধ নির্মানে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে সরকার এমনটিই চাওয়া ক্ষতিগ্রস্থদের।

সৈয়দ আকবর হোসেন, গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close