দেশবাংলা

ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে ’নিরাপদ বৃদ্ধাশ্রম’

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের এক যুবক, অবহেলায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়া প্রবীণদের আশ্রয় দিতে নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ’নিরাপদ বৃদ্ধাশ্রম’। দেখভালও করেন নিজেই। তবে চিকিৎসা, খাদ্যসহ প্রবীণদের প্রতিদিনের খরচ জোগাতে, হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।

অবহেলার স্বীকার বৃদ্ধ বাবা-মায়েদের একটু ভাল রাখতে সরকারি সহায়তা চেয়েছেন এই মানবদরদী মানুষটি।

নচিকেতার ’বৃদ্ধাশ্রম’ গানটি মনে দাগ কাটে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের কীটনাশকের খুচরা দোকানী সাজেউর রহমান সাজুর মনে। তখনই ঠিক করেন, সন্তানদের অবহেলাসহ নানা কারণে অবহেলিত বৃদ্ধ বাবা মায়ের দায়িত্ব নেবেন তিনি। সেই চিন্তা থেকেই গড়ে তোলেন,’নিরাপদ বৃদ্ধাশ্রম’।

বৃদ্ধ বাবা মায়ের দায়িত্ব নেয়নি সন্তানেরা। অভিভাবকহীন হয়ে পড়া এমন ২৫ জন নিরাশ্রয় প্রবীণদের স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে ঠাই দেন, নিরাপদ বৃদ্ধাশ্রমে। সাজুর ছোট্ট দোকানের আয় দিয়ে গত দুই বছর ধরে ‍চালিয়ে আসছেন এ বৃদ্ধাশ্রম। প্রবীনদের চিকিৎসা, খাদ্য খরচসহ আশ্রম চালাতে সম্প্রতি স্থানীয় কিছু যুবক সহযোগিতার হাত বাড়ালেও সেটা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এখন প্রয়োজন সরকারী সহায়তা।

এই আশ্রমের খাওয়া দাওয়া বা পরিচর্যা নিয়ে প্রবীণদের মনে কোনো অভিযোগ নেই। তবে নিজ সন্তানদের প্রতি মনে দানা বেঁধে আছে অভিমান ও ক্ষোভ।

এদিকে, প্রশাসনের নজর কেড়েছে আশ্রমটি। এ মহতী উদ্যোগে প্রশংসা করে দ্রুত অসহায় প্রবীনদের জন্য বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করার কথা জানান, নীলফামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ।

অসহায় বৃদ্ধ বাবা-মায়েদের একটু সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য সরকারী সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসবে এমন প্রত্যাশা সবার।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close