দেশবাংলা

অরক্ষিত হয়ে পড়েছে রাজবাড়ী বেড়িবাঁধ

পদ্মানদীর তীরবর্তী রাজবাড়ী শহর রক্ষা বেড়ীবাঁধের দুইপাশে থাকা সামাজিক বনায়নের শত শত গাছ পানির দরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, এসব গাছ কেটে ফেলায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে বেড়ীবাঁধ।

অথচ এ বাঁধটি রক্ষার জন্য প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে আসছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রয়োজন ছাড়া বেড়ীবাঁধের ঢালুতে থাকা গাছগুলোও কেটে ফেলায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করলেও প্রশাসন নিরব।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার জামতলা থেকে পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর পর্যন্ত পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে রয়েছে বেড়ীবাঁধ। সম্প্রতি গোয়ালন্দ উপজেলার জামতলা থেকে সদর উপজেলার লক্ষীকোল ইমামবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার বেড়ীবাধঁ সম্প্রসারণ করে আঞ্চলিক মহাসড়কে পরিণত করার উদ্যোগ নেয় সড়ক বিভাগ।

এজন্য গেল বছরের সেপ্টেম্বরে বাঁধের দুইপাশের গাছ কেটে ফেলার জন্য ফরিদপুর বিভাগীয় বন  কার্যালয় থেকে টেন্ডার আহবান করা হয়। টেন্ডারের আগে বেড়ীবাঁধের দুইপাশে থাকা সব গাছ মার্কিং করে নম্বর দেন জেলা সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মচারীরা। টেন্ডার অনুযায়ী ৫৬টি লটে ১৪শ ৯৬টি গাছ ক্রয় করেন ৪টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

অভিযোগ উঠেছে, বড় বড় গাছগুলো যে দামে বিক্রি করার কথা তার থেকে কম দামে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া মার্কিং করা গাছ ছাড়াও অতিরিক্ত গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। এতে বেড়ীবাঁধটি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। ভবিষ্যতে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা করছে স্থানীয় বাসীন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।

এদিকে, রাজবাড়ী সামাজিক বনায়ন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দাবী শুধুমাত্র তাদের নির্ধারণ করা গাছগুলোই কাটা হয়েছে।

বেড়ীবাঁধটির দুপাশে থাকা শত শত সকল প্রকার তরতাজা গাছ কেটে ফেলায় বাঁধটি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে তেমনি এর প্রভাব পড়বে পরিবেশের উপর। এমনটাই আশংকা করছেন বিশিষ্টজনেরা।

শিহাবুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি 

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close