দেশবাংলা

অযত্নে-অবহেলায় ফেনীর দর্শনীয় স্থানগুলো

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় পর্যটন শিল্পে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হওয়ার পথে। এখানে রয়েছে ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থাপনা। স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে না থাকলেও, অযত্নে অবহেলায় আজও দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করে প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য প্রায় ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে সিলেট-চট্টগ্রামের প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছে।

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার মহামায়াতে মোগল সাম্রাজ্যে বাংলার ১২ ভূঁইয়ার এক ভূঁইয়া চাঁদগাজী ভূঞার ঐতিহাসিক ভূঁইয়া মসজিদ প্রতিষ্ঠিত। এছাড়া রয়েছে জমিদার শ্রী মুন্সি সুন্দর চন্দ্র চৌধুরীর নির্মিত সাত মন্দির বা সাত মঠ।

উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জগন্নাথ সোনাপুর গ্রামে রয়েছে প্রায় ৫ একর জায়গার ওপর বাংলার বাঘ খ্যাত, শমসের গাজী দীঘি। এ দীঘিতে ১শ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি সুড়ঙ্গ পথও রয়েছে। এছাড়া নবাব শমশের গাজীকে লালন পালনকারী জগন্নাথ সেনের স্মৃতি রক্ষার্থে একটি কালী মন্দির মুর্তি নির্মাণ করা হয়।এর বৈশিষ্ট্য হলো এর দুই নেত্র প্রকোষ্ঠ্যে বসানো লাল বর্ণের পাথরগুলো ৪শ বছর পরও রাতে আলো ছড়াচ্ছে।

উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নে বিশাল বৌদ্ধ ভিক্ষুকের শিলালিপি আকৃতির শিলাটি কয়েকশো বছর পূর্বের তা ইতিহাসবিদরাও জানাতে পারেননি। অপরদিকে রয়েছে বৃটিশ আমলে নির্মিত শুভপুর ও রেজুমিয়া ব্রীজ। এ স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে না থাকলেও, অযত্নে অবহেলায় আজও দর্শনীয় স্থান হিসেবে অক্ষত।

এখানে প্রত্নতত্ব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকাটি পর্যটন শিল্পে বিকাশের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় হবে বলে জানান, প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিচালক মোঃ আতাউর রহমান।

ফেনীর ৬টি উপজেলার ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে প্রাচীন নিদর্শনসমূহ। অযত্নে অবহেলায় পড়ে থাকা এগুলোর ঐতিহ্য হারাতে বসেছিল। নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করা হলে আগামী প্রজন্ম জানতে পারবে কয়েকশো বছরের পুরনো ইতিহাস।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close