
গত এক বছরে সারাদেশে ৪২৩টি কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় ৫৭২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছে। আর ২০১৮ সালে ৪৮৪টি কর্মক্ষেত্র দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছিল ৫৯২ জন শ্রমিক। বেসরকারি সংস্থা সেইফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি ২৬টি দৈনিক সংবাদপত্র (১৫টি জাতীয় এবং ১১টি স্থানীয়) মনিটরিং করে বছর শেষে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানায়।
তবে, যেসব শ্রমিক কর্মক্ষেত্রের বাইরে অথবা কর্মক্ষেত্র থেকে আসা-যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় তাদেরকে এই জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এতে দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক নিহত হয়েছে পরিবহন খাতে। যাদের সংখ্যা মোট ২১২ জন। এর পরেই রয়েছে নির্মাণ খাত। এই খাতে নিহত হয়েছে ১২৯ জন। সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে (যেমন ওয়ার্কশপ, গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি) ১০২ জন, কল-কারখানা ও অন্যান্য উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানে ১০০ জন এবং কৃষি খাতে এই সংখ্যা ২৯ জন।
তাদের মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় ২১৮ জন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ৬৭ জন; আগুনে পুড়ে ৬৭ জন; ছাদ, মাঁচা বা ওপর থেকে পড়ে মারা গেছে ৫৪ জন; শক্ত বা ভারী কোনো বস্তুর দ্বারা আঘাত বা তার নিচে চাপা পড়ে ৪৫ জন; ব্রিজ, ভবন, ছাদ, মাটি ও দেয়াল ধসে ২৮ জন; রাসায়নিক দ্রব্য বা সেপটিক ট্যাঙ্ক বা পানির ট্যাঙ্কের বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ২৫ জন; বজ্রপাতে ২৫ জন; পানিতে ডুবে ২০ জন; বিভিন্ন বিস্ফোরণে ১৭ জন এবং অন্যান্য কারণে ছয়জন শ্রমিক নিহত হয়েছে।
জরিপের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, অধিকাংশ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে নিরাপত্তা সামগ্রী ব্যবহার না করে বৈদ্যুতিক লাইন সংযোগ দেয়ার সময়। কিংবা নিয়মানুযায়ী যথাযথভাবে মাচা তৈরি না করার ফলে মাচা ভেঙে বা মাচা থেকে পড়ে প্রায়ই শ্রমিক নিহত হচ্ছে। এছাড়া, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা বা যথাযথ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি না থাকা শ্রমিক মারা যায়।–ঢাকা টাইমস



