বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

সম্ভাবনাময় দেশীয় অ্যাপের বাজার

দেশে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং সেবা পরিবহন ব্যবস্থাকে জাদুর কাঠির মতো বদলে দিয়ে নতুন এক রূপ দিয়েছে। দেশেই তৈরি হয়েছে পাঠাও, সহজের মতো রাইড শেয়ারিং অ্যাপ। পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান। হাজার হাজার তরুণ নিজেদের এই সেবায় নিযুক্ত করেছেন। এর বাইরে দেশে বিকাশ, নগদের মতো অ্যাপ এখন দারুণ জনপ্রিয়।

৮ বছর আগেও দেশে অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট খাতে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। এখন আর অ্যাপ তৈরি করতে বিদেশনির্ভর থাকতে হচ্ছে না। দেশের অ্যাপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতেই তৈরি হচ্ছে জনপ্রিয় সব অ্যাপ। আগে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যেখানে ভারতসহ বাইরের দেশ থেকে অ্যাপ তৈরি করে আনত, সেখানে এখন দেশীয় প্রতিষ্ঠানের ওপরেই ভরসা বাড়ছে।

এ খাতে গত আট বছরে বাংলাদেশের ডেভেলপাররা দ্রুত এগিয়েছেন। বাংলাদেশের তরুণেরা এখন গেমস, অ্যাপস, রোবটিক মিডিয়াসহ দরকারি অ্যাপ তৈরি করছেন। অ্যাপস নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বলছেন, ২০১৭ সালে দেশে অ্যাপের বাজার ছিল ৫০০ কোটি টাকার মতো। ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০০ কোটি টাকায়। বর্তমানে তা হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।

সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ বলছে, দেশের বিশালসংখ্যক মানুষ এখন স্মার্ট মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। ফলে এই দেশই এখন বিশাল একটা বাজার। দেশীয় অ্যাপ ও কনটেন্টের চাহিদা বাড়ছে। বাজারও বড় হচ্ছে। যে গতিতে ডেভেলপাররা উঠে আসছে, তাতে অ্যাপসের স্থানীয় বাজারে ছাপ রাখছে। সরকারি নানা উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার কারণে দেশের কিছু কিছু অ্যাপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান খুব ভালো করছে।

আর, সফটওয়্যার সেবা খাতের সংগঠন বেসিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশে অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে—এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন কয়েক শ। গত কয়েক বছরে প্লে স্টোরসহ অ্যাপ প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের ডেভেলপারদের তৈরি অ্যাপের সংখ্যা কয়েক লাখ। অ্যাপ তৈরিতে বাংলাদেশে ডেভেলপাররা এখন হাজার কোটি টাকার বাজার ধরার চেষ্টা করছেন।

এ প্রসঙ্গে, প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ বলেন, দেশের অ্যাপ খাতের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য ইতিমধ্যে ৩১ হাজারের বেশি প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল তৈরি করেছে সরকার। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে মোবাইল গেম ও অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়নে স্থানীয় বাজার সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুত করার লক্ষ্যে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরির ওপর দেশব্যাপী বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপগুলোর মধ্যে বিশ্বে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে টুলস, কমিউনিকেশন, ভিডিও প্লেয়ার্স অ্যান্ড এডিট, ভ্রমণ ও স্থানীয় বিভিন্ন অ্যাপ। আইওএসের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইউটিলিটিস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ছবি, ভিডিও ও গেমভিত্তিক অ্যাপ। দেশের উদ্যোক্তারা ‘হিরোজ অব ৭১’–এর মতো সফল গেমিং অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতেও সফলতা দেখিয়েছেন।– প্রথম আলো

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button
Close