
চট্টগ্রামের মুকুন্দ বড়ুয়া, গেল পহেলা জুলাই চাকরি হারিয়ে হতাশায় নিজের দুই কন্যা সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা পর আত্মহত্যা করেন। করোনার অসময়ে কর্ম হারিয়ে দিশেহারা অবস্থা এমন অনেক পেশাজীবীর। করোনায় অর্থনীতিতে সংকটের কারণে কর্মসংস্থান হারাচ্ছে বহু মানুষ।
এরমধ্যে চাকরি থেকে ছাঁটাই হওয়াসহ, বিভিন্ন পেশাজীবীদেরও আয়-রোজগার অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। অসময়ে কর্ম হারিয়ে বিপাকে পড়ছেন তারা। এদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি হবে আরো ভয়াবহ। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রনোদনাসহ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরামর্শ দিয়েছে অর্থনীতিবিদরা।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএস বলছে, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দেশে প্রায় ১৩ শতাংশ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন। যাদের আয় কম, তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাসে গড়ে পাঁচ হাজার টাকার কম উপার্জন কারিদের আয় কমেছে ৭৫ শতাংশ। পাঁচ হাজার থেকে ১৫ হাজারের মধ্যে আয় করেন, তাদের কমেছে ২৩ দশমিক ৩১ শতাংশ।
করোনার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত হয়ে পড়ায়, এই সময়ে চাকরি হারিয়েছেন অনেকে। কমেছে অপ্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন কাজের সুযোগও। গবেষণা সংস্থা পিআরআইয়ের তথ্য বলছে, করোনার কারণে দেশে সব মিলিয়ে চাকরি হারাতে পারে অন্তত দেড় কোটি কর্মী। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, এরইমধ্যে দেশের নতুন দরিদ্র অন্তত দেড় কোটি।
এছাড়াও, যাদের আয় ২০ হাজারের বেশি তাঁদের অনেকের অভিযোগ, আয় কমেছে প্রায় ৫০ শতাংশ। আর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করে যারা সদ্য নেমেছিলেন চাকরির বাজারে, ভবিষ্যত কি হবে তা যেন আতঙ্কের শিহরণে ফেলেছে তাদের।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিক উজ জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কর্মহীনদের সাময়িক প্রণোদনাসহ দেশের উৎপাদন প্রক্রিয়াকে তরান্বিত করতে না পারলে সৃষ্টি হতে পারে গভীর সংকট।
তবে বেকারত্ব দূরীকরণে, নতুন বাজেটে যথেষ্ট বরাদ্দ নেই বলেও মত কারো কারো। এমন বাস্তবতায়, বেকারত্ব ঘুচাতে শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে, ব্যক্তিগত কর্মসংস্থানে উৎসাহ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
মাসুদ সুমন, বাংলা টিভি



