
করোনা সংক্রমণের এই মহামারীকালে দেশে বেড়ে গেছে বাল্যবিয়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা এবং দারিদ্র্য ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাকে এর কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বাল্যবিয়ে ও শিশু নির্যাতন রোধে, স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের নজরদারি এবং হেল্পলাইন সার্ভিসগুলোকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
করোনাভাইরাসের কারণে কয়েক মাস ধরেই বন্ধ দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। আর এই সুযোগটিই নিচ্ছেন কোনো কোনো অভিভাবক। পরিস্থিতির কারণে ঘরে বন্দী হয়ে থাকা মেয়েশিশুদের বোঝা মনে করছেন তারা। বাল্যবিয়ে দিয়ে হলেও মুক্তি পেতে চাইছেন। এতেই বাড়ছে বাল্যবিয়ে। এর বাইরে বেড়েছে শিশু নির্যাতনের হারও।
করোনাভাইরাস মহামারীকে কেন্দ্র করে দেশের মানুষ যখন নানা সমস্যায় জর্জরিত, তখন শিশুদের নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির এক জরিপের তথ্য বলছে, গত জুন মাসে ৪৬২ জন কন্যাশিশু বাল্যবিয়ের শিকার হয়েছে।
আগের মাসে যে সংখ্যাটি ছিল ১৭০। শুধু বাল্যবিয়েই নয়, এই সময়ে বেড়েছে শিশু নির্যাতনের সংখ্যাও। গত মাসে ২ হাজার ৮৯৬ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। শিশু নির্যাতনের এই সংখ্যাকে আশঙ্কাজনক বলে দাবি করছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।
ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা শাবনাজ জাহরীন বলেন, শিশুদের সুরক্ষায় হেল্পলাইন সার্ভিসগুলো আরও কার্যকর করতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে প্রতিবেশীদেরও।
তবে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ডাঃ আশরাফী আহমেদ মনে করেন সম্মিলিতভাবে কাজ করলে অচিরেই বাল্যবিয়ে ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। নারীর প্রতি সহিংসতা, শিশু নির্যাতন ও বাল্যবিয়ে বন্ধে এখনই সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন বলেও মনে করছেন, বিশেষজ্ঞরা।
আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি



