অন্যান্যবাংলাদেশ

পুরান ঢাকায় রাসায়নিক কারখানা সরেনি যোগসাজশের কারণে: টিআইবি

চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডের পর পুরান ঢাকায় কেমিক্যালসহ দাহ্য পদার্থের ব্যবসায় ট্রেড লাইসেন্সসহ কারখানা ও রাসায়নিক গুদাম স্থাপনের জন্য প্রযোজ্য লাইসেন্স প্রদান কিংবা নবায়ন বন্ধ রয়েছে।

তারপরও অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে লাইসেন্স বের করার প্রচেষ্টা চলছে বলে, অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বৃহস্পতিবার অগ্নিকাণ্ড বিষয়ে এক ওয়েবিনারের আয়োজন করে টিআইবি। ওয়েবিনারে ‘নিমতলী, চুড়িহাট্টা এবং অতঃপর পুরনো ঢাকার অগ্নি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ এবং করণীয়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত রাজধানীতে প্রায় ৪৬৮টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মাঝে পুরান ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা এবং ঝুঁকি সব থেকে বেশি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসন এবং অন্যান্য অংশীদারদের মাঝে জবাবদিহিতার ঘাটতি রয়েছে বলেও গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর তদন্ত কমিটি এবং টাস্কফোর্সের সুপারিশ বেশিরভাগই বাস্তবায়ন করা হয়নি বলে দাবি টিআইবি গবেষণার। তবে পুরনো ঢাকার অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া অন্তত সাতটি পদক্ষেপের তথ্য ঠাঁই পায় গবেষণা প্রতিবেদনে।

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন শেষে নিজ বক্তব্যে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিমতলী-চুড়িহাট্টার মতো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটা পুরো ঢাকাবাসী এবং দেশের জন্য ট্র্যাজেডি। একই সাথে প্রশাসনের ঘাটতির ফল। অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা সামাল দেওয়ার সাথে যেসব সংস্থা জড়িত তারা সকলেই অনিয়মে জর্জরিত।

ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারেরই নির্দেশনাগুলোকে অমান্য করে। আদালতের নির্দেশনাগুলোকে অমান্য করে। এটা অপশাসন। প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং ব্যবসায়ীদের চাপ; সব মিলিয়ে একটা সিন্ডিকেট। যে কারণে এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আমরা বারবার দেখি।

ওয়েবিনারে টিআইবির উপদেষ্টা সুমাইয়া খায়ের, পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাহজাদা আকরামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button