অন্যান্যবাংলাদেশ

ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির সুযোগ নিয়েছে ধর্ষকরা: তদন্ত কমিটি

সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনার জন্য ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি ও তদারকির অভাবকে দায়ী মনে করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। তবে ‘ঘটনাটি ছাত্রাবাসের কোনো কক্ষে নয়, ধর্ষিতা ও তার স্বামীর গাড়িতে ঘটেছে’ বলেও তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের ঘটনায় গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এমসি কলেজ পরিদর্শন করে তিন কার্যদিবস পর বৃহস্পতিবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) মো. শাহেদুল খবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়। বৃহস্পতিবার কমিটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। পরে আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

জানা যায়, ১৪৪ একর এলাকা নিয়ে বিশাল ক্যাম্পাসের কোনো সীমানা প্রাচীর নেই। গাছগাছালি ও টিলা ঘেরা ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও নজরে এসেছে তদন্ত কমিটির।

‘যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে ভবন নির্মাণাধীন থাকায় শ্রমিকদের অবাধ আনাগোনা থাকায় লোকজনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি’ বলেও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রটি মনে করে। ‘এছাড়া ছাত্রাবাস এলাকায় কলেজের অনেক কর্মচারী সপরিবার থাকেন।’

ধর্ষকদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলেও তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। ‘তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে রাজনৈতিক ও সামাজিক কঠোর অবস্থান নিতে হবে।’ তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না বলেও মনে করে তদন্ত কমিটি।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় প্রাইভেটকারে কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে গেলে এক নবদম্পতিকে জোর করে ছাত্রাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামীকে ব্যাপক মারধর করার পাশাপাশি বেঁধে রেখে গৃহবধূকে গাড়িতে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। খবর পেয়ে রাত ১১টায় শাহপরাণ থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে।

বর্তমানে ওই তরুণী সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরাণ থানায় মামলা করেন। মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি করা হয় ছয়জনকে। সে সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button