অন্যান্যবাংলাদেশ

ডাকবাক্সের আদলে ডাক ভবন

অতিকায় এই ডাকবাক্সটি আসলে ডাক ভবন। ডাকবাক্সের আদলে গড়ে তোলা হয়েছে ভবনটি। ঝকঝকে–চকচকে ভবনটি ১৪ তলা উঁচু ভবনটি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাকবাক্সের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে ডাক ভবন হিসেবে।

সরকারের ডাক বিভাগের এই নতুন ভবনের এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়নি। প্রায় পৌনে এক একর জায়গার ওপরে এই ভবন তৈরির কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের শেষে। কুশলী আর্কিটেক্ট নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্থপতি কৌশিক বিশ্বাস এর স্থাপত্য নকশা করেছেন।

প্রথমে ভবনটি ৮ তলা পর্যন্ত করার কথা ছিল, পরে এটি ১৪ তলা করা হয়। প্রতিটি তলায় জায়গা আছে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বর্গফুট। ভবন তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৯২ কোটি টাকা।

ভবনের ভেতরে পা রাখতেই সামনে পড়বে রানার। ডাক বিভাগের প্রতীক হয়ে ওঠা রানারের প্রমাণ আকারের ভাস্কর্য বসানো হয়েছে মেঝের মাঝখানে। আর তিন দিকের দেয়াল সাজানো স্মারক ডাকটিকিটের বড় আকারের ডিজিটাল প্রিন্ট দিয়ে।

এতে আছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, শহীদ বুদ্ধিজীবী, বীরশ্রেষ্ঠর প্রতিকৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়। তাতে উঠে এসেছে বাংলার ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি।

ডাক ভবনে থাকবে নিজস্ব বিশেষ আগুন নেভানোর ব্যবস্থা। এ ছাড়া ভবনে আছে ভূগর্ভস্থ দুটি তলা। এতে থাকবে পার্কিং, নিজস্ব সার্ভার। চতুর্থ তলায় থাকবে মন্ত্রী ও মহাপরিচালকের দপ্তর। একেবারে ওপরে থাকবে খোলামেলা মিলনায়তন। আলাদা করে বেশ কয়েকটি সভাকক্ষ। ওপরের তিনটি তলায় থাকবে ডাক বিভাগের মুঠোফোনে আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এর কার্যালয়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডাক বিভাগের সেবার মান উন্নত হয়েছে, নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে, তেমনি অনেক কিছু হারিয়েও গেছে। সেই নিদর্শন সাজিয়ে রাখা হবে ডাক জাদুঘরে। এই জাদুঘর তৈরি করা হচ্ছে ভবনের তৃতীয় তলায়। এ ছাড়া এখানে থাকবে একটি পাঠাগার। দোতলায় থাকবে ক্যাফেটেরিয়া।

নিচের তলায় একটি ডে-কেয়ার সেন্টারও থাকবে। ভবনের চারদিক কাচে ঘেরা থাকায় দিনে সূর্যের আলোতেই আলোকিত থাকবে, বাতি জ্বালানোর বিশেষ প্রয়োজন হবে না। নতুন ভবনে এসে জনগণের সেবার মাধ্যমেও আলোকিত হবে ডাক বিভাগ।

জানা গেছে, ডাক ভবনের সব কাজ শেষ। শিগগিরই এর উদ্বোধন হবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ নতুন কার্যালয় উদ্বোধন হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button