অন্যান্যবাংলাদেশ

৪ ডিসেম্বর: ঢাকা-চট্টগ্রাম-খুলনায় যৌথ বাহিনীর বোমাবর্ষণ

আজ ৪ ডিসেম্বর। একাত্তরের এই দিনে দখলদার বাহিনীর ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনী। ঢাকা-চট্টগ্রাম-খুলনায় শত্রুর ঘাঁটিতে চলে মুহুর্মুহু বোমাবর্ষণ। ক্রমশ নিজেদের গুঁটিয়ে নিতে থাকে পাকিস্তানি সেনারা। এদিন হানাদার মুক্ত হয় দেশের বেশকিছু অঞ্চল। এ দিনই পাকিস্তানের পক্ষে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের আনা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ভেস্তে যায় সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটোতে।

১৯৭১ সালের ৪ ডিসেম্বর, পাকিস্তান নৌ-বাহিনীর সাবমেরিন পিএনএস গাজী বিশাখাপত্তম বন্দরের কাছে ধ্বংস হয়। ভারতীয় বিমান এবং নৌবাহিনীর জঙ্গি বিমানগুলো বার বার ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলে সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর আক্রমণ চালায়।  প্রথম রাতের আক্রমণেই পাকিস্তানের বিমান বহরের প্রায় অর্ধেক বিমান ধ্বংস হয়ে যায়!

যৌথ বাহিনীর তিনটি ডিভিশন পঞ্চগড়, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা দিয়ে প্রবেশ করে ঢাকা অভিমুখে অগ্রসর হতে থাকে।  এদিন বাংলাদেশের চুয়াডাঙ্গা, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা মুক্ত হয়। এদিকে, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শিবিরও চালিয়ে যায় তাদের অপতৎপরতা।

সেই দিনের স্মৃতি স্মরণ করছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের ৭ নম্বর সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সবুর। একাত্তরের এই দিনে বাংলাদেশের সব রণক্ষেত্রে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকায় হানাদার বাহিনী সর্বত্রই পিছু হটতে থাকে।

এদিন দুপুরে ইয়াহিয়া খান এক বেতার ভাষণে ভারতের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা করেন। রণাঙ্গনে যুদ্ধকালেই আরেক বাকযুদ্ধ শুরু হয় জাতিসংঘে। সংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের পক্ষে মার্কিন প্রতিনিধি সিনিয়র জর্জ বুশ যুদ্ধবিরতি ও সৈন্য প্রত্যাহারের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন এতে ভেটো দিলে, পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতির আকাঙ্ক্ষা ভেস্তে যায়।

এদিকে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল মুক্ত হতে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়তে থাকে সর্বত্র। সেই বিজয়ের বার্তা যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের করে তোলে আরো দুর্বার, অপ্রতিরোধ্য।

আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button