বাংলাদেশঅন্যান্য

এখনও নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ হালকা প্রকৌশল খাত

বিশ্বব্যাপী বৃহৎ শিল্পের সাফল্যের নীরব সহযোগী হালকা প্রকৌশল বা লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত। চলতি বছরে সরকার হালকা প্রকৌশল পণ্যকে বর্ষপণ্য ঘোষণা করলেও বাংলাদেশে সম্ভাবনাময় এ খাতটি এখনও একটি গণ্ডির মধ্যেই আটকে আছে। নানামুখী সমস্যার কারণে দেশি বিদেশি বাজারে এর সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা, নীতি সহায়তা এবং উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিলে অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষা কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরায় বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়েই হালকা প্রকৌশল শিল্পের বিস্তার। জিঞ্জিরাতেই গড়ে উঠেছে দুই হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও হালকা শিল্প কারখানা। কারিগর-শ্রমিকের দিনরাতের শ্রমে গড়ে উঠছে সম্ভাবনার আরেক বাংলাদেশ। নাট-বল্টু থেকে শুরু করে বিভিন্ন কল-কারখানার যন্ত্রপাতি- সবই তৈরি হয় এখানে।

কারিগররা জানালেন, তাঁরা এখন কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, তৈরি পোশাক, বস্ত্র, গাড়ি, রেলসহ বিভিন্ন খাতের যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ তৈরি করেন। এমন কি, যন্ত্রাংশ তৈরির মেশিনও বানিয়ে থাকেন তাঁরা। সারা দেশে সেই যন্ত্রের ব্যবহার আছে, যার কারণে যন্ত্রের জন্য বিদেশনির্ভরতা কিছুটা হলেও কমে গেছে।

তবে, উদ্ভাবন কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও, এ খাতে সরকারের উল্লেখযোগ্য কোনো সহযোগিতা নেই বলে অভিযোগ উদ্যোক্তাদের।

শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন জানান, এ খাতের বিশাল সম্ভাবনার কথা চিন্তা ক’রে উদ্যেক্তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও প্রনোদনার পাশাপাশি, কারখানাগুলোকে একত্রিত করারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

হালকা প্রকৌশল খাতকে বলা হয় মাদার অব ইন্ডাস্ট্রি। ভারি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষুদ্র যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল উৎপাদনের মাধ্যমে ভারি শিল্প ও তার উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রাখে এ খাত। পর্যাপ্ত সহযোগিতা পেলে রূপকল্প ২০৪১ এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে হালকা প্রকৌশল খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button