বাংলাদেশদুর্ঘটনা

‘দুইজনের সম্মতিতেই তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়’

জিজ্ঞাসাবাদে দিহানের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার সাজ্জাদুর রহমান শুক্রবার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘দুইজনের সম্মতিতে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। ওই স্কুল ছাত্রী ও দিহানের সাথে বন্ধুত্ব বেশ কয়েক বছরের। বিষয়টি তাদের পরিবারের সদস্যরাও জানেন। তবে এজাহারে এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।’

তবে আনুশকার বাবার দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, আনুশকাকে কলাবাগান ডলফিন গলির বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন দিহান। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে অচেতন হয়ে পড়লে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আসামি নিজেই তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।

মামলার বিবরণে আরো বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ওই ছাত্রীর মা কর্মস্থলের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এক ঘণ্টা পরে তার বাবাও ব্যবসায়িক কাজে বাসা থেকে বের হন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ওই ছাত্রী তার মাকে ফোন করে কোচিং থেকে পড়ালেখার পেপার্স আনার কথা বলে বাসা থেকে বের হন।

এই মামলার একমাত্র আসামি ‘ও’ লেভেল পড়ুয়া দিহান বেলা ১টা ১৮ মিনিটে ফোন করে ওই শিক্ষার্থীর মাকে জানান, মেয়েটি তার বাসায় গিয়েছিলেন। হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়েছে। অফিস থেকে বের হয়ে আনুমানিক দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা হাসপাতালে পৌঁছেন।

হাসপাতালের কর্মচারীদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, আসামি তার মেয়েকে কলাবাগান ডলফিন গলির বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে অচেতন হয়ে পড়লে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আসামি নিজেই তাকে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।

এদিকে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই আনুশকার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের আর কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলেও যৌনাঙ্গ ও পায়ুপথে ক্ষত চিহ্ন পাওয়া গেছে। বিকৃত যৌনাচারের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার মৃত্যু হয়।

এঘটনায় বৃহস্পতিবারই হাসপাতাল থেকে দিহানকে গ্রেফতার করে কলাবাগান থানা পুলিশ। শুক্রবার মামলায় ‘দোষ স্বীকার’ করে তিনি ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে জবানবন্দি দেয় দিহান।

এছাড়া, বৃহস্পতিবার রাতে আটক ফারদিন ইফতেখার দিহানের তিন বন্ধুকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দিয়েছে পুলিশ। ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তাদের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির কলাবাগান জোনের এডিসি এহসানুল ফেরদৌস।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button