বাংলাদেশঅন্যান্য

সরকারী প্রকল্পগুলোতে সময়ক্ষেপণ-ব্যয়বৃদ্ধি

সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে, দীর্ঘসূত্রিতা ও নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি যেন একটি সহজাত প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। দফায় দফায় সময়ক্ষেপণ এবং বাজেট বাড়ানোর ফলে, কেবল জনসাধারণই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না, পাশাপাশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সার্বিক অর্থনীতিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেকোন প্রকল্প নির্ধারিত ব্যয় বা সময়সীমার ভেতরে শেষ করা না গেলে, জবাবদিহিতা ছাড়া সেটির সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করাই উচিত নয়।

বর্তমান সরকারের আমলে একদিকে যেমন বাড়ছে নানামূখী উন্নয়ন প্রকল্প, অন্যদিকে অনেক প্রকল্পেই বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির কারণে ঝুলে আছে, বাড়ছে ব্যয়ও। নির্ধারিত সময়সীমা ও প্রথম প্রাক্কলিত বাজেটের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়া, যেন এখন বিরল ঘটনা।

গত ৮ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি- একনেক সভায় উন্নয়ন প্রকল্পে সময়ক্ষেপণ এবং দফায় দফায় খরচ বৃদ্ধির বিষয়ে, ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্প সংশোধন ও যখন-তখন টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব আনার প্রবণতা বন্ধ করে, যথাসময়ে কাজ বাস্তবায়নে তাগিদ দেন তিনি।

একবার-দু’বার নয়,অনেক প্রকল্পই তিন থেকে চারবার পর্যন্ত মেয়াদ ও অর্থ বরাদ্দ- উভয়ই বাড়ানো হচ্ছে। এতে করে জনগণের টাকা অপচয়ের পাশাপাশি, কাঙ্খিত সেবা পেতে যেমন বিলম্ব হচ্ছে, দীর্ঘায়িত হচ্ছে ভোগান্তির মাত্রাও। এমন চিত্র, ছোট থেকে শুরু করে মেগা প্রকল্পগুলোতেও। তাই লাগামহীনভাবে প্রকল্প সংশোধনকে, দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য একটি অশুভ সংকেত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

একইসঙ্গে, প্রকল্পব্যয় বাড়ার পেছনে প্রক্রিয়াগত নানা কারণসহ সংশ্লিষ্টদের দুর্নীতির সুযোগ খোঁজাকেও, বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই এক্ষেত্রে নজরদারি এবং জবাবদিহিতার কোন বিকল্প নেই।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ- আইএমইডি’র সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী জানান, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন দুর্বল প্রকল্পগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উর্ধবতন এই সরকারি কর্মকর্তা আরও মনে করেন, একটি প্রকল্পের মানসম্মত বাস্তবায়নে কার্যাদেশপ্রাপ্ত সংস্থা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইএমইডি’র ত্রিপাক্ষিক সমন্বয় প্রয়োজন।

আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button