বাংলাদেশঅন্যান্য

অগ্নিঝরা মার্চের ৫০ বছর

বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের সবচেয়ে ঘটনাবহুল মাস, মার্চের প্রথম দিন আজ। ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার সংগ্রামের পথ পেরিয়ে পাকিস্তানি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে ১৯৭১ সালের এ মাসেই শুরু হয়েছিল দুর্বার আন্দোলন। ৭০ এর নির্বাচন পেরিয়ে, এই রক্তঝরা মার্চই বাঙালির আত্মপরিচয়ে বলীয়ান হয়ে, চূড়ান্ত যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার মাস।

 ১৯৭১ সালের ১ মার্চ হঠাৎ এক হটকারী সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক স্বৈরশাসক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করলে, বিক্ষোভে ফেটে পড়ে বাংলার আপামর জনতা।

বাঙালির আত্মপরিচয়ের উন্মেষ ৫২-র ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। স্বাধিকার আন্দোলনের পথ ধরে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সেই বীজই, ধীরে ধীরে সংগ্রামের মহীরুহে পরিণত হয়। ৭০-এর নির্বাচন ছিল সেই সংগ্রামের টার্নিং পয়েন্ট।

কিন্তু নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। একাত্তরের পয়লা মার্চ হঠাৎ করেই ৩ মার্চের গণপরিষদের নির্ধারিত অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন জেনারেল ইয়াহিয়া খান। প্রতিবাদে গর্জে ওঠে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসির মামুন জানান, বঙ্গবন্ধু আগে থেকেই আশঙ্কা করছিলেন যে মুক্তির পথটি মোটেও সহজ হবে না। তিনি বলেন, সেদিন রেডিওতে ইয়াহিয়া খানের ভাষণের পরেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ঢাকা। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার প্রতিবাদে রাজধানীতে প্রচণ্ড বিক্ষোভ হয়। মুহূর্তেই উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো বাংলা।

অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ, ঢাকায় এবং ৩ মার্চ সারাদেশে সর্বাত্মক হরতালের ডাক দেন। এরপর নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন রূপ নেয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে।

আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button