বাংলাদেশঅন্যান্য

৭ মার্চ: কবি শোনালেন তার অমর কবিতা

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ আজ। ১৯৭১ সালের এইদিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের বিশাল জনসমাবেশে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার সেই ডাকেই এ দিন জেগে উঠেছিল ২৩ বছরের শোষণ-পীড়নে পিষ্ট মুক্তি পাগল জনতা। বঙ্গবন্ধুর যুগান্তকারী ভাষণটি আজ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত।

৭০-এর নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর, একাত্তরের পয়লা মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করায়, বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশব্যাপী অসহযোগ আন্দোলন সপ্তমদিনে তীব্র আকার ধারণ করে। এমন প্রেক্ষাপটে পূর্বনির্ধারিত ৭ মার্চ-এর জনসভায় যোগ দিতে এদিন সকাল থেকেই রেসকোর্স ময়দানে জড়ো হতে থাকে লাখো জনতা।

বিকাল ৩টা ২০ মিনিটে জনসভাস্থলে উপস্থিত হন বঙ্গবন্ধু। এ সময় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ময়দান ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। ফাগুনের সূর্য তখনও মাথার ওপর। দৃপ্ত পায়ে হেঁটে মঞ্চে আসার পর, জনতার উদ্দেশে হাত নাড়েন বঙ্গবন্ধু। এ সময় স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো উদ্যান।

গগণবিদারী এ স্লোগানের উদ্দামতা আর বসন্তের মাতাল হাওয়ায় সেদিন পত পত করে ওড়ে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল-সবুজের পতাকা। স্বভাবসুলভ সাবলীল ভঙ্গিতে বক্তৃতা শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। পরাধীনতার শৃঙ্খলে বন্দী নিপীড়িত বাঙালি জাতি যখন স্বাধীনতার ডাকের জন্য অধীর অপেক্ষায়, তখন জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে, গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তার অমর কবিতা।

ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে ভারসাম্য রক্ষা করেছিলেন সুনিপুণভাবে। মাত্র ১৮ মিনিটের ভাষণে বঙ্গবন্ধু সামরিক আইন প্রত্যাহার, গুলি ও হত্যা বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরসহ তুলে ধরেন ইতিহাসের পুরো ক্যানভাস।

আর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, আমির হোসেন আমু প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধুর ওই ভাষণই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা। এর মধ্য দিয়েই সাড়ে সাত কোটি নিরস্ত্র বাঙালিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো।

আসাদ রিয়েল, বাংলা টিভি, ঢাকা

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button