বাংলাদেশঅন্যান্য

স্বাস্থ্যঝুঁকির তোয়াক্কা নেই ডাম্পিং শ্রমিকদের

দুঃসহ জীবন যাপন করেন, রাজধানীর বড় দুটি ডাম্পিং স্টেশনে কাজ করা বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ শ্রমিকরা। স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজে, তাদের নেই কোন সুরক্ষা সামগ্রী। সারাদিন হাঁড়ভাঙ্গা খাটুনির বিনিময়ে পারিশ্রমিকটা একেবারেই যতসামান্য। কেউ কেউ আবার বসতি গেড়ে, থাকছেন আবর্জনার উপরেই।

বিভৎস দুর্গন্ধ, মাছি আর বর্জ্যকীটের আবাসস্থল, সহস্র কাক-চিলের ভীড়, সাথে ক্ষুধার্থ কুকুরের অলস চাহনি। বেঁচে থাকার তাগিদে, প্রতিকুল এমনই একটা পরিবেশের মাঝেই প্রতিনিয়ত কাজ করেন বহু বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ শ্রমিক।

যাত্রাবাড়ির ডাম্পিং স্টেশনের রমজান আলী। ১০ বছর ধরে এই ময়লার ভাগাড়ই তার রুটি-রুজির একমাত্র জায়গা।জীবন আর জীবিকার নিয়তি যখন সেখানে বাঁধা, তাই কেউ কেউ স্ত্রী-সন্তানকে দুরে না রেখে ময়লার ভাগাড়েই খুপড়ি ঘর বেঁধে থাকছেন।

এরকম শ্রমিক আছেন শত শত। যারা ময়লা-আবর্জনায় মধ্যে প্লাষ্টিক আর পলিথিন টুকিয়ে দৈনিক হাজিরা পান মাত্র ১শ থেকে ২শ টাকা। কারো কারো বয়সের ভারে নুইয়ে পড়েছে শরীর। মানুষগুলো শুধু বোঝে, কাজ করলে তবেই মিলবে দু’বেলার খাবার।

প্রচুর স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলেও, এসব ডাম্পলিং জোনে নেই শ্রমিকদের জন্য তেমন কোন সুরক্ষা উপকরণ। চিকিৎসা না পেয়ে জটিল ব্যাধিতে ভুগে প্রাণও হারিয়েছেন অনেকেই।

জাতিসংঘ গৃহীত ‘টেকসই উন্নয়ন নীতিমালার মূল অঙ্গীকার ‘কাউকে পিছিয়ে রাখা যাবে না’। সমৃদ্ধির ভাগ যাবে সবার ঘরে। তাই, দেশ গঠনে ভুমিকা রাখা এসব বর্জ্য শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা এবং মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

শাহরিয়ার রাজ, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button